তাওয়াং মঠের অবিশ্বাস্য ইতিহাস, যা আজও আপনাকে অবাক করবে!

বার্তা ডেস্কঃ

অরুণাচল প্রদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা তাওয়াং উপত্যকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ভারতের বৃহত্তম বৌদ্ধ মঠ ‘গাদেন নামগিয়াল লাতসে’। ১৭ শতকে পঞ্চম দলাই লামার নির্দেশে মেরাক লামা লোদ্রে গিয়াৎসো কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই তিনতলা ঐতিহাসিক মঠটি প্রায় ৯২৫ ফুট দীর্ঘ প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। বর্তমানে তাওয়াং মনাস্ট্রি নামে পরিচিত এই সুবিশাল আধ্যাত্মিক কেন্দ্রটিতে ৬৫টি কক্ষ রয়েছে। অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন হিসেবে এর রঙিন প্রবেশদ্বার ‘কাকালিং’ এবং ভেতরের ছাপাখানায় সংরক্ষিত হাতে তৈরি ‘কাংগ্যুর’ ও ‘তেংগ্যুর’-এর মতো অমূল্য প্রাচীন বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থগুলো বিশ্বজুড়ে পর্যটক ও গবেষকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

স্থানীয় লোককথা অনুসারে, এই ঐতিহ্যবাহী মঠ প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক অলৌকিক ও চমকপ্রদ গল্প। বলা হয়ে থাকে, সঠিক জায়গার খোঁজে প্রার্থনারত লামা লোদ্রে গিয়াৎসোর প্রিয় ঘোড়াটি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি তানা মান্দেখাং পাহাড়ের শীর্ষে সাবেক এক রাজপ্রাসাদের স্থানে ঘোড়াটিকে খুঁজে পান। এই ঘটনাটিকে দৈব সংকেত হিসেবে বিবেচনা করে তিনি স্থানীয় অধিবাসীদের সহায়তায় সেখানেই মঠ নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। আজ পূর্ব হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক তাওয়াং মনাস্ট্রি শুধু বৌদ্ধ শিক্ষার অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্রই নয়, বরং অরুণাচল প্রদেশে আগত ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিস্ময়কর দর্শনীয় স্থান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *