বিভূতি এক্সপ্রেসে চলন্ত ট্রেনের মাথায় ‘ফিল্মি’ কায়দায় স্টান্ট! হাইভোল্টেজ তারে ছিটকে পড়ে আশঙ্কাজনক যুবক

চলন্ত ট্রেনের জানালার রড ধরে ছাদে উঠে পড়া, তারপর হাইভোল্টেজ ওভারহেড তারের সংস্পর্শে এসে ছিটকে পড়া— শনিবার বিকেলে পানাগড় স্টেশনে বিভূতি এক্সপ্রেসে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। এক যুবকের হঠকারী কর্মকাণ্ডে প্রাণসংশয় তো বটেই, দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হলো হাওড়া-দিল্লি মেইন লাইনের ট্রেন চলাচল।

ঠিক কী ঘটেছিল?

যাত্রী সূত্রে খবর, বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের কামরায় ওই যুবক হাওড়া থেকেই আসছিলেন। বর্ধমান ছাড়ানোর পর গলসি স্টেশনের কাছে তিনি ট্রেনের গেটে চলে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পানাগড় স্টেশনে ঢোকার ঠিক আগে চলন্ত ট্রেনের জানালার রড ধরে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে ছাদে উঠে পড়েন তিনি। চালক বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ট্রেন থামিয়ে দেন।

ইলেক্ট্রিক তারে বিকট শব্দ:

ট্রেন থেমে যাওয়ার পর যাত্রীরা চিৎকার করে তাঁকে নামতে বললেও ওই যুবক কারও কথা কানে তোলেননি। উল্টে তিনি ছাদের ওপর দিয়েই ইঞ্জিনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময়ই ওপরের হাইভোল্টেজ ইলেকট্রিক তারের সংস্পর্শে চলে আসেন তিনি। বিকট শব্দে ঝলসে গিয়ে ছিটকে ইঞ্জিনের ওপরে পড়েন ওই যুবক।

ট্রেন চলাচল ব্যাহত:

এই ঘটনার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেলকর্মী ও যাত্রীদের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই চরম বিশৃঙ্খলার জেরে হাওড়া-দিল্লি মেইন লাইনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পানাগড় স্টেশনে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর নির্ধারিত সময়ের অনেকটা দেরিতে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বিভূতি এক্সপ্রেস।

রেল পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই যুবকের মানসিক ভারসাম্য ঠিক ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলন্ত ট্রেনের ছাদে ওঠার এই প্রবণতা রুখতে রেলের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *