ভোট মিটতেই কি কদর শেষ? পান্ডুয়ায় রেলের বুলডোজারে রাতারাতি ঘরহারা বহু পরিবার

পান্ডুয়া: বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই হুগলির পান্ডুয়া রেলপাড় এলাকায় শুরু হল রেলের ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান। শনিবার গভীর রাতে বুলডোজার নিয়ে উচ্ছেদ চালানোয় মুহূর্তের মধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার। ভোটের ঠিক পরেই এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ভোটের পরই কেন সক্রিয়তা?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রেলপাড়ের বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় কোনও প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়নি। গত ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার ঠিক পরেই রেলের তরফে নতুন করে নোটিশ জারি করা হয়। তাতে স্পষ্ট জানানো হয়, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই এলাকা খালি করতে হবে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে বিকল্প আস্তানা খুঁজে পাওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি।

বুলডোজার ও কান্নার রোল

শনিবার রাতে হঠাৎ করেই বুলডোজার নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতেই বিপাকে পড়েন বাসিন্দারা। মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকু হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে ঠাঁই নিয়েছেন বহু মানুষ। অনেক ছোট ছোট দোকান এবং ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ায় রুটি-রুজির সংস্থানও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ঘরহারা মানুষের চোখে জল আর ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি—সব মিলিয়ে রেলপাড়ের পরিবেশ এখন রণক্ষেত্র। রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায় ক্ষতিগ্রস্তদের।

বাসিন্দাদের অভিযোগ ও ক্ষোভ

উচ্ছেদ হওয়া মানুষের একাংশের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এক বাসিন্দা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “ভোটের আগে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়নি, কারণ তখন আমাদের ভোটগুলোর দরকার ছিল। এখন ভোট দেওয়া শেষ, তাই আমাদের দরকারও ফুরিয়েছে। এক দিনের নোটিশে মানুষ কোথায় যাবে? একটু সময় দিলে অন্তত জিনিসপত্রগুলো সরানো যেত।” তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্যই এই উচ্ছেদের সময়কাল বেছে নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধীরা একে ‘জনবিরোধী’ পদক্ষেপ বলে আক্রমণ করলেও রেল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঘরহারা পরিবারগুলির জন্য দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা। ভোটের ফলের অপেক্ষায় থাকা বাংলার এক কোণে এখন ঘর বাঁচানোর লড়াই সবথেকে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *