দীপাবলির মুখে কড়া পরীক্ষায় ডাহা ফেল ১৮টি বাজি, বাড়ছে শব্দদূষণের ভয়!

বার্তা ডেস্কঃ

দীপাবলি ও কালীপুজোর মুখে বাজি পরীক্ষায় কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের। কলকাতার টালা পার্কে আয়োজিত যৌথ গুণমান ও শব্দমাত্রা পরীক্ষায় পাশ করতে পারল না ১৮টি বাজি। ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (নিরি)-র নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় ওই বাজিগুলিকে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে উৎসবের মরশুমে শহরজুড়ে নিষিদ্ধ শব্দবাজির অবাধ প্রবেশ নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা।

শুক্রবার টালা পার্কে বাজির মান ও শব্দসীমা যাচাই করতে এক উচ্চপর্যায়ের যৌথ দল উপস্থিত ছিল। সেখানে ‘নিরি’-র আধিকারিকদের পাশাপাশি হাজির ছিলেন দমকল বিভাগ, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং কলকাতা পুলিশের প্রতিনিধিরা। বাজি ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে মোট ১২০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রথম দফার যাচাইয়ে নির্ধারিত শর্তপূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ১৮টি বাজিকে বাতিল করে নিরি। বাকি বাজিগুলির ভাগ্য নির্ধারণের জন্য নমুনাগুলি তাদের কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বাজি শিল্প উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর মান্না জানান, প্রাথমিক ছাড়পত্র না মেলায় ১৮টি বাজি বাতিল করা হয়েছে। বাকি বাজির চূড়ান্ত ভাগ্য নিরির ল্যাব টেস্টের পরেই জানা যাবে। তবে সোমবার থেকে শহরে বাজি বাজার বসার কথা থাকলেও, তার আগে এই রিপোর্ট হাতে আসবে কি না, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।

অন্যান্য বছরের মতো বহুতল আবাসনে শব্দের দাপট রুখতে শনিবার আবাসন কমিটির কর্তাদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। পরিবেশ দপ্তর ও রাজ্য পুলিশের উপস্থিতিতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, আবাসনের ভিতরে কোনও অবস্থাতেই নিষিদ্ধ শব্দবাজি চালানো যাবে না। কেবল নিয়মমাফিক অনুমোদিত ‘সবুজ বাজি’ বা গ্রিন ক্র্যাকার্স ব্যবহার করা যাবে। নির্দেশ অমান্য করলে আবাসন কমিটির বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ ও পর্ষদ।

প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও নজরদারির ফাঁকফোকর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের দাবি, শহরে নাকা চেকিং ও কড়াকড়ির যে তৎপরতা থাকা উচিত ছিল, বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। ফলে বাজার বসার আগেই লুকিয়ে নিষিদ্ধ বাজি ঢুকে পড়ছে শহরে। তবে লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, বেআইনি বাজির কারবার রুখতে শহরজুড়ে লাগাতার অভিযান ও নজরদারি চলছে। নিষিদ্ধ বাজি মজুত ও বিক্রির দায়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *