প্রতিবাদই পথ, সঙ্গে কেনাকাটাও: দিল্লির ব্যবসায়ীদের পাশে রাহুল!
বার্তা ডেস্কঃ
দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Bloc) জোটের মহার্যালি ঘিরে রাজধানীতে চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ভোটার তালিকায় কারচুপি ও এসআইআর (SIR) ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রবিবার এই সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা। তবে উৎসবের মরসুমে এই বিপুল জমায়েতের জেরে যাতে দিল্লির ব্যবসায়ীদের লোকসানের মুখে পড়তে না হয়, তার জন্য এক অভিনব বার্তা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় মিছিলে যোগ দিতে আসা সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আবেদন জানান—প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রত্যেকে যেন স্থানীয় দোকান থেকে কেনাকাটা করেন, যাতে ছোট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির বদলে লাভবান হন।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও সমাবেশ পিছনোর দাবি
দীপাবলি, ভাইফোঁটা এবং ছটপুজোর মুখে দিল্লির মূল বাজারগুলিতে কেনাকাটার ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী সমাবেশকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (CTI):
- যানজট ও পরিবহণ অচলাবস্থা: রামলীলা ময়দানে পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকায় হাজার হাজার বাস ও গাড়ি আশপাশের রাস্তায় ভিড় জমাতে পারে। ফলে চান্দনি চক, সদর বাজার, কনট প্লেস, খাড়ি বাওলি, চাওড়ি বাজার ও করোল বাগের মতো প্রধান বাণিজ্যিক অঞ্চলে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল কার্যত থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- সমাবেশ পিছনোর আবেদন: উৎসবের বাজার নির্বিঘ্ন রাখতে ১ নভেম্বরের বদলে ১০-১১ নভেম্বরের পরে কর্মসূচি করার আর্জি জানিয়ে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব ও উদ্ধব ঠাকরেদের চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
রাহুলের পাল্টা যুক্তি ও প্রতিক্রিয়া
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির উদ্বেগের জবাবে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট বার্তা দেন:
- কেনাকাটায় আর্থিক চাঙ্গা ভাব: ভিডিও বার্তায় রাহুল বলেন, “প্রতিবাদ করুন, মিছিল করুন, সভা করুন। পাশাপাশি একটু কেনাকাটাও করুন।” বাইরে থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষ স্থানীয় বাজার ও ছোট দোকান থেকে কেনাকাটা করলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হবে না, উল্টে বিক্রি বাড়বে।
- রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: বিরোধীদের আন্দোলন বানচাল করতে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতির ভয় দেখাচ্ছে ও গুজব ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
- দাবি পূরণে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা রক্ষার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে রাহুল মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিতর্কিত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরিয়ে দিলেই মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে এই প্রতিবাদ প্রত্যাহার করে নেওয়া সম্ভব।
দিল্লি পুলিশ কঠোর শর্ত ও সুনির্দিষ্ট পার্কিং নির্দেশিকার ভিত্তিতে এই সভার অনুমতি দিয়েছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের শক্তি প্রদর্শন, অন্যদিকে উৎসবের মরসুমে রাজধানীর অর্থনৈতিক সচলতা বজায় রাখা—উভয় টানাপড়েনের মধ্যেই নজর এখন রামলীলা ময়দান ও দিল্লির প্রধান বাজারগুলির দিকে।