দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা শো! নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় রামলীলা ময়দান যেন দুর্গ
বার্তা ডেস্কঃ
ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ, রবিবার দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিশাল শক্তি প্রদর্শনে নামছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Bloc) জোট। ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, যুব ও ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একমঞ্চে দেখা যাবে।
কর্মসূচি ও গতিপ্রকৃতি
- যাত্রা শুরুর পরিকল্পনা: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা বাসে করে পৌঁছেবেন কনট প্লেস ও মিন্টো রোডের সংযোগস্থলে। সেখান থেকে দুপুর ১২টায় শুরু হবে পদযাত্রা, যা পৌঁছাবে রামলীলা ময়দানে। সমাবেশ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
- বিশাল প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো: রামলীলা ময়দানের মূল মঞ্চে তৈরি হয়েছে বিশাল তেরঙা ছাউনি। বিভিন্ন রাজ্য শাখার প্রতিনিধিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথক মঞ্চ। পাশাপাশি পানীয় জল, বায়ো-টয়লেট এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য রাখা হয়েছে দলীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।
- দেশজুড়ে কর্মী সমাগম: ভারতীয় যুব কংগ্রেসের প্রায় ২০ হাজার কর্মী ছাড়াও জম্মু-কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও দেশের নানা প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকেরা জমায়েত হতে শুরু করেছেন। অভিজিৎ দীপকের ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) সহ একাধিক নাগরিক ও ছাত্র সংগঠন নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে। আয়োজকরা বিপুল জনসমাগমের আশা করলেও পুলিশের অনুমান প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার মানুষ মাঠে উপস্থিত হতে পারেন।
দিল্লি পুলিশের ‘চক্রব্যূহ’ নিরাপত্তা
সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে দিল্লি পুলিশ:
- ৪,০০০ পুলিশ কর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী: রামলীলা ময়দান ও মিছিলের রুট জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী এবং সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (CAPF) একাধিক কো ম্পা নি।
- ১৪টি নিরাপত্তা জোন: গোটা চত্বরকে ১৪টি জোনে ভাগ করে প্রতিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার (ACP) আধিকারিকদের হাতে।
- ড্রোন ও সিসিটিভি নজরদারি: ভিড়ের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে ময়দানের ভিতরে খোলা হয়েছে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম। নজরদারিতে রয়েছে ২০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা, নজরদারি ড্রোন এবং বডি-ক্যামেরা।
- ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আইটিও, দিল্লি গেট, রাজঘাট, অজমেরি গেট ও তুর্কমান গেট সংলগ্ন এলাকায় ট্র্যাফিক ডাইভারশন কার্যকর করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও রাহুলের বার্তা
দীপাবলি, ছট ও ভাইফোঁটার মরশুমে সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে সনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিয়েছিল দিল্লির ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (CTI)। প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কার জবাবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মিছিলে আসা কর্মী-সমর্থকদের স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, উৎসবের মুখে এই সমাবেশ ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করবে না, বরং বাইরে থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের কেনাকাটায় ছোট দোকানদাররাই লাভবান হবেন।