সংখ্যালঘু এলাকার ইভিএম আগে গণনা? গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল-বিজেপির স্নায়ুযুদ্ধ

আগামীকাল রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ফলাফল। গণনা শুরু হতে যখন কয়েক ঘণ্টা বাকি, তখন ইভিএম খোলা এবং গণনাকেন্দ্রের আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র কৌশলগত লড়াই। সূত্রের খবর, গণনার প্রাথমিক পর্যায়েই প্রতিপক্ষের মনোবল ভেঙে দিতে বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, যার পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি-ও।

তৃণমূলের ‘লিড’ কৌশল ও বিরোধীদের মনোবলে ধাক্কা

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, তৃণমূলের রণকৌশল হলো দক্ষিণবঙ্গের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে সংখ্যালঘু প্রধান অঞ্চলের ইভিএমগুলি আগে গণনার টেবিলে আনা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—গণনার শুরুতেই তৃণমূল প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে এগিয়ে রাখা। শাসক শিবিরের ধারণা, শুরুর কয়েক রাউন্ডে তৃণমূল এগিয়ে থাকলে বিজেপি-সহ বিরোধী এজেন্টদের মনোবল ভেঙে যাবে। অনেক ক্ষেত্রে হতোদ্যম হয়ে এজেন্টরা গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন, যা শেষবেলায় গণনার রাশ নিজেদের হাতে রাখতে তৃণমূলকে সাহায্য করবে। যদিও নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তায় এমন কৌশল কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিজেপির পাল্টা ধৈর্য ও সংযমের বার্তা

তৃণমূলের এই সম্ভাব্য কৌশলের মোকাবিলায় বিজেপি নেতৃত্ব তাদের কর্মীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো প্ররোচনা বা প্রাথমিক ফলাফলে বিচলিত না হয়ে শেষ পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রে টিকে থাকতে হবে। বিজেপি এজেন্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গণনায় কোনো কারচুপি বা অশান্তির চেষ্টা হলে তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ জানাতে। শমীক ভট্টাচার্য দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, “জয়ের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত, তাই কোনো প্ররোচনায় পা দিয়ে গণনায় গন্ডগোল করা যাবে না।”

কমিশনের কড়া নজরদারি

রাজ্যের ৭৭টি গণনা কেন্দ্রে মোট ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা হবে (ফলতা বাদে)। এবারের নির্বাচনে ভোটদান যেমন রেকর্ড গড়েছে, তেমনই গণনা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন ব্যবস্থা নিয়েছে। গণনা কেন্দ্রের ভেতরে এবং বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া প্রহরা থাকবে। শাসক-বিরোধী দু’পক্ষই যখন এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ, তখন শেষ পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রের এই স্নায়ুযুদ্ধে কারা জয়ী হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *