সোমবার ৫ রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণ: এক্সিট পোলের কাঁটাছেঁড়া ও বাংলা-কেরলে বিশেষ নজর

আগামীকাল, সোমবার সকাল আটটা থেকে শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের বহু প্রতীক্ষিত ভোট গণনা। গত এপ্রিল মাস জুড়ে দফায় দফায় চলা এই লোকাল লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করবে বেলা গড়ানোর সাথে সাথেই। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।

এক্সিট পোলের পূর্বাভাস: কোথায় কে এগিয়ে?

বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থার বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল অনুযায়ী, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণ বেশ বৈচিত্র্যময়:

  • পশ্চিমবঙ্গ: অধিকাংশ এক্সিট পোল রাজ্যে বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও, একটি সমীক্ষায় তৃণমূলের জয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ২৯৩টি আসনের এই লড়াইয়ে হাড্ডাহাড্ডি টক্করের আভাস মিলছে।
  • কেরল: সবকটি সমীক্ষাই একমত যে, ১০ বছর পর বাম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ-কে সরিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ
  • অসম: উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে বিজেপি পুনরায় সরকার গড়তে চলেছে বলে আভাস দিয়েছে সবকটি সংস্থা।
  • তামিলনাড়ু: মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে এগিয়ে থাকলেও অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল (টিভিকে) ১০০-র বেশি আসন পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যা ত্রিশঙ্কু বিধানসভার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
  • পুদুচেরি: এই ছোট রাজ্যে পুনরায় সরকার গড়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে এনআর কংগ্রেস

কেন নজরে বাংলা ও কেরল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে বাংলা ও কেরলের দিকে। কেরলে যদি বামেরা ক্ষমতাচ্যুত হয়, তবে ভারতের মানচিত্রে সিপিএম তথা বামপন্থীরা কার্যত শাসন ক্ষমতার বৃত্তের বাইরে চলে যাবে। ২০২১-এ কেরলবাসী প্রথা ভেঙে টানা দ্বিতীয়বার বামেদের জয়ী করলেও এবার কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের লড়াইকে বলা হচ্ছে ‘নজিরবিহীন’। ক্ষমতা ধরে রাখতে তৃণমূল এবং তা ছিনিয়ে নিতে বিজেপি—উভয় পক্ষই মরণপণ লড়াই চালিয়েছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ, বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের কারণে বাংলার নির্বাচন এবার জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রেকর্ড ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ার পর বাংলার মানুষ শেষ পর্যন্ত কাকে নবান্নের চাবিকাঠি দেয়, তা নিয়েই এখন চলছে চূড়ান্ত স্নায়ুযুদ্ধ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *