নীলবাড়ি দখলের লড়াইয়ে আজই চূড়ান্ত ফয়সালা
দীর্ঘ টানাপোড়েন আর উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা। গত ১৫ মার্চ বিজ্ঞপ্তি জারির পর ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় নিজেদের রায় জানিয়েছেন বাংলার মানুষ। সকাল ৮টা থেকে জেলায় জেলায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হওয়া এই গণনায় নির্ধারিত হবে আগামী পাঁচ বছর পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার কাদের হাতে থাকবে। নবান্নের ১৪ তলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন ঘটবে নাকি দেড় দশক পর ফের ‘পরিবর্তন’ ফিরবে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের লালবাড়িতে, দুপুরের মধ্যেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলবে।
পরিবর্তন বনাম প্রত্যাবর্তনের মহালড়াই
এবারের নির্বাচন নানা দিক থেকেই ঐতিহাসিক। স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যে ৯২ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে, যা এক অনন্য রেকর্ড। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের জনমুখী প্রকল্প ও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ওপর ভর করে হ্যাটট্রিক প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, বিজেপি প্রবল প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া ও পরিবর্তনের ডাক দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার দাবি জানাচ্ছে। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সম্মুখসমর এই নির্বাচনকে এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও টানটান উত্তেজনা
ভোট গণনার আগের রাতে স্ট্রং রুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কারচুপির অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। কর্মীদের রাত জেগে গণনাকেন্দ্র পাহারার ডাক দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি নজরদারিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে। বাংলার পাশাপাশি আজ অসম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির ফলাফলও ঘোষিত হবে, যা জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার, শেষ হাসি কে হাসে।