ভোটগণনার আগে স্ট্রং রুমে ‘অন্ধকার’ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মমতার
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ভোট গণনার আগে জনগণের রায় বদলে দিতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কারচুপির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটগণনার সকালে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।
পরিকল্পিত লোডশেডিং ও সিসিটিভি অকেজো করার অভিযোগ
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, হুগলির শ্রীরামপুর, নদিয়ার কৃষ্ণনগর, বর্ধমানের আউসগ্রাম এবং কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণনাকেন্দ্রগুলোতে ধাপে ধাপে লোডশেডিং করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে স্ট্রং রুমের আশেপাশে সন্দেহজনক যানবাহন ঢোকানো হচ্ছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অকার্যকর করে দেওয়া হচ্ছে। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “জনগণের ভোট রক্ষা করতে রাত জেগে পাহারা দিন; কোথাও সন্দেহজনক কিছু দেখলে তৎক্ষণাৎ এলাকা ঘিরে ফেলুন এবং অভিযোগ জানান।”
রেকর্ড ভোট ও চূড়ান্ত ফয়সালার অপেক্ষা
২০২৬-এর এই নির্বাচনে ৯২ শতাংশের বেশি ভোটদান বাংলার ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়েছে। আজ সকাল ৮টা থেকে ২৯৩টি আসনে ভোটগণনা শুরু হতে যাচ্ছে, যার ওপর নির্ভর করছে আগামী পাঁচ বছর নবান্নের দখল কার হাতে থাকবে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস হ্যাটট্রিক প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার দাবি করছে। বিশেষ করে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথ এবং ফলতা আসনে পুনঃনির্বাচন নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে আজকের ফলাফল ভারতের জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে।