হাওড়া স্টেশনে উদ্ধার শতাধিক তরুণী, অনলাইন গেমিং ও ইনস্টাগ্রামের আড়ালে কোন ভয়ঙ্কর ফাঁদ?

বার্তা ডেস্কঃ

সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন বিনোদনের পরিসরকেই এবার নিজেদের পাতা ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক নারী পাচারচক্র। সুন্দরবন, দুই ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রত্যন্ত এলাকা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিশোরী ও তরুণীদের নিশানা করতে বেছে নেওয়া হয়েছে ইনস্টাগ্রাম এবং অনলাইন ভিডিও গেমের চ্যাটবক্স। সম্প্রতি হাওড়া স্টেশনের অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট (AHTU)-এর হাতে বিগত তিন মাসে শতাধিক নাবালিকা ও তরুণী উদ্ধার হওয়ার পর এই ভয়াবহ চক্রের কার্যপদ্ধতি প্রকাশ্যে এসেছে।

কীভাবে পাতা হচ্ছে ফাঁদ?

উদ্ধার হওয়া তরুণীদের বয়ানের ভিত্তিতে রেলরক্ষী বাহিনী (RPF)-র তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত আধুনিক ও সুপরিকল্পিত পদ্ধতিতে কাজ করছে:

  • ভুয়ো পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা: অনলাইন গেমিং বা ইনস্টাগ্রামে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত চাকুরে কিংবা বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেয় চক্রের যুবকেরা। বন্ধুত্ব গভীর হলে মোবাইল নম্বর আদান-প্রদান এবং গভীর রাত পর্যন্ত চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে কিশোরীদের মানসিক নির্ভরতা তৈরি করা হয়।
  • প্রলোভনের টোপ: মডেলিং বা সিনেমা জগতে সুযোগ পাইয়ে দেওয়া, ভিন রাজ্যে বা বিদেশে বহুজাতিক সংস্থায় মোটা বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং বহু ক্ষেত্রে বিয়ের ভুয়ো প্রস্তাব দিয়ে মগজধোলাই করা হয়।
  • পরিবার ছেড়ে বের করে আনা: একপর্যায়ে মিথ্যে আশ্বাসে পরিবার থেকে পালিয়ে আসতে প্ররোচিত করা হয় এই নাবালিকাদের।

পাচারের প্রধান গেটওয়ে হাওড়া স্টেশন

ভিন রাজ্য বা আন্তর্জাতিক সীমান্তে পাচারের জন্য মূল ট্রানজিট রুট বা ‘গেটওয়ে’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে হাওড়া স্টেশনকে। তদন্তে জানা গিয়েছে:

  • দালালদের ভূমিকা: চক্রের শীর্ষ পাণ্ডারা সামনে না এসে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে স্টেশন থেকে মেয়েদের সংগ্রহ করে। এরপর দূরপাল্লার ট্রেনে তোলার আগেই তাদের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার ছক থাকে।
  • সতর্ক আরপিএফ ও উদ্ধার অভিযান: হাওড়া স্টেশনে একা থাকা বা সন্দেহজনক গতিবিধির তরুণীদের দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পাচারের ছক ফাঁস হয়। গত তিন মাসে ১০০-রও বেশি মেয়েকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে আরপিএফের বিশেষ ইউনিট।

উদ্ধার হওয়া তরুণীরা মূলত ক্যানিং, হাবড়া, বনগাঁ, কৃষ্ণনগর ও মুর্শিদাবাদের পাশাপাশি আসাম এবং ত্রিপুরার বাসিন্দা। সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ও অনলাইন গেমের অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে এই বড়সড় আন্তঃরাজ্য চক্রের মূল চক্রীদের চিহ্নিত করতে জোরদার তল্লাশি ও সাইবার নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *