২০২৭ সালে আসছে নতুন বই, সিলেবাসে বড় চমক!

বার্তা ডেস্কঃ

সময়ের তীব্র ঘাটতির মুখে তৃণমূল আমলের স্কুল সিলেবাসেই নামমাত্র কিছু পরিবর্তন করে বই ছাপাতে পাঠাতে হলো প্রেসে। ফলে ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষেও কার্যত তৃণমূল সরকারের আমলের সিলেবাসই পড়তে হচ্ছে রাজ্যের স্কুলপড়ুয়াদের। তৃণমূলের প্রভাবমুক্ত বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কয়েকটি পাঠ্যপুস্তকের নাম ও প্রচ্ছদে পরিবর্তন আনা হলেও মূল পাঠ্যক্রমে বড় কোনও রদবদল ঘটেনি। শুধুমাত্র সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায় বাদ দেওয়া, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী সংযোজন এবং কিছু ইসলামিক সম্বোধন বা শব্দের পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সংশোধনের কাজ।

নাম ও প্রচ্ছদে সামান্য বদল

সিলেবাস কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৮০টি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে মাত্র চার-পাঁচটি বইয়ের নামে বদল আনা হয়েছে:

  • প্রাক-প্রাথমিকের বই: প্রাক-প্রাথমিকের ‘মজারু’ বইটির নাম নিয়ে কমিটির সদস্যদের একাংশের আপত্তি থাকায় সেটির নাম বদলে ‘রং-তুলি’ বা সমগোত্রীয় কোনও নাম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • ইতিহাস পাঠ্যের সরলীকরণ: ইতিহাস বইয়ের দীর্ঘদিনের নাম ‘অতীত ও ঐতিহ্য’ বদলে সরাসরি ‘ইতিহাস’ রাখা হচ্ছে এবং মলাটে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট শ্রেণির উল্লেখ থাকবে।
  • প্রাচীন ইতিহাসের তথ্যে সংযোজন: হিন্দু শাসকদের আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দরের গুরুত্ব ও বাণিজ্য নিয়ে কিছু বিস্তারিত তথ্য নতুন করে যোগ করা হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে এই পরিবর্তনগুলিকে অত্যন্ত গৌণ বলেই মনে করছেন সদস্যরা।

‘বুক ডে’-র তাড়া ও প্রশাসনিক জটিলতা

স্কুল সিলেবাস এক্সপার্ট কমিটির এক সদস্য জানান, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কাজ অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। আগামী ২ জানুয়ারি ‘বুক ডে’-র দিন পড়ুয়াদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার লক্ষ্য পূরণ করতে গেলে প্রেসে বই পাঠানো ছাড়া উপায় ছিল না; এমনকি মুদ্রণের দায়িত্বে থাকা সরস্বতী প্রেসও সময় নিয়ে হাত তুলে নেওয়ার উপক্রম করেছিল।

এর পাশাপাশি উঠে এসেছে কমিটির অন্দরের নানা ক্ষোভ ও প্রশাসনিক জটিলতা:

  • দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলেও এখনও তাঁদের সাম্মানিক বা যাতায়াত খরচের টাকা পাননি।
  • সিলেবাস সংস্কার একটি পূর্ণসময়ের কাজ হলেও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা স্কুল থেকে প্রয়োজনীয় ছুটি মেলেনি।
  • একটি আন্তর্জাতিক বা জাতীয় স্তরের সুসংহত সিলেবাসে ২২০ দিনের অ্যাকাডেমিক স্টাডি প্ল্যান, পিরিয়ড বণ্টন ও মূল্যায়ন পদ্ধতির বিস্তারিত রূপরেখা দরকার হয়, যার কোনওটাই পর্যাপ্ত সময়ের অভাবে করা সম্ভব হয়নি।

এনসিইআরটির ভারসাম্য ও ডিজিটাল পরিকাঠামো

বিশেষজ্ঞদের মতে, এনসিইআরটি (NCERT)-র বইগুলি রাজ্যের তুলনায় কিছুটা পাতলা হলেও কাঠামোগত দিক থেকে অনেক বেশি সুসংহত। তবে রাজ্যের পাঠ্যক্রমে বহু বিষয় অনেক বিস্তারিতভাবে পড়ানো হয়, যার মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি ছিল।

এদিকে জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজিটাল শিক্ষার ওপর জোর দিতে চাইছে দফতর। রাজ্যের কতগুলি স্কুলে কম্পিউটার রয়েছে, সেগুলির বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের কী অবস্থা এবং আরও কত স্কুলে কম্পিউটার সরবরাহ করতে হবে—তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বিকাশ ভবনে বৈঠক হয়েছে। নতুন পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস তৈরির ঘাটতি আপাতত পরিকাঠামোগত মানোন্নয়নের মাধ্যমেই সামাল দেওয়ার পথে হাঁটছে শিক্ষা দফতর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *