করিমপুরে কি ফুটছে ঘাসফুল, ভোটগণনার শুরু থেকেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে সোহম
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নদিয়ার করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। হাইভোল্টেজ এই কেন্দ্রে ভোটগণনার শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রাথমিক প্রবণতা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সোহম চট্টোপাধ্যায় তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। গণনা যত এগোচ্ছে, করিমপুরের দখল ধরে রাখতে শাসক শিবিরের আত্মবিশ্বাস ততই বাড়ছে।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগণনা শুরু হয়। প্রথম রাউন্ড থেকেই লিড বজায় রেখেছেন সোহম চট্টোপাধ্যায়। এই আসনে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিজেপির সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ এবং সিপিআই(এম)-এর প্রভাস মজুমদার। এছাড়াও কংগ্রেসের পূজা পারজিতা রায় চৌধুরীসহ একাধিক নির্দল প্রার্থী ময়দানে থাকলেও, লড়াই মূলত ত্রিমুখী আকার ধারণ করেছে। তবে শুরু থেকেই তৃণমূল প্রার্থীর ধারাবাহিক লিড বিরোধীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রায় ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের বিমলেন্দু সিংহ রায়। সেই জয়ের ধারা বজায় রাখা সোহমের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনি এই আসনটি ধরে রাখা তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষাও বটে। প্রায় ২ লক্ষ ৪১ হাজার ভোটারের এই কেন্দ্রে গ্রামীণ ও শহর—উভয় অঞ্চলের জনমতই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোহম চট্টোপাধ্যায়ের এই অগ্রগমন বজায় থাকলে তা ওই অঞ্চলে তৃণমূলের মাটি আরও শক্ত করবে। অন্যদিকে, বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস জোটের জন্য এই ফল হবে আগামী দিনের কৌশল পরিবর্তনের বড় সংকেত। আপাতত প্রতি রাউন্ড শেষে ফলাফলের চিত্র বদলালেও জয়ের পাল্লা তৃণমূল প্রার্থীর দিকেই ভারী বলে মনে করা হচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য এখন অপেক্ষা কেবল শেষ মুহূর্তের।