বিজয় মিছিলে কমিশনের কড়া শর্ত, অশান্তি রুখতে রাজ্যজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা চলাকালীন বিজয় মিছিল ও উদযাপন নিয়ে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। সোমবার গণনার প্রাথমিক ট্রেন্ড আসতেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যখন উচ্ছ্বাস দানা বাঁধছে, ঠিক তখনই শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিজয় মিছিলের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের উদযাপন এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
অনুমতি ছাড়া মিছিল নয়
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি ফল পরবর্তী বিজয় মিছিল করতে চায়, তবে তাঁদের আগে থেকে কমিশনের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। বিনা অনুমতিতে কোনো প্রকার জমায়েত বা মিছিল করা যাবে না। মূলত গণনা পরবর্তী হিংসা রুখতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। সিইও-র মতে, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম বজায় রাখা জরুরি। একইসঙ্গে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকল আধিকারিককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
নিরাপত্তার চাদরে গণনা কেন্দ্র
ভোট পরবর্তী হিংসার ইতিহাস মাথায় রেখে এবার বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শান্তি বজায় রাখতে রাজ্যজুড়ে মোতায়েন থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিশেষত গণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটার পরিধিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, যাতে কোনো অনভিপ্রেত জমায়েত না ঘটে। এছাড়া কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
প্রভাব ও সর্তকতা
কমিশনের এই কড়াকড়ির ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর উচ্ছ্বাসে কিছুটা রাশ পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোট পরবর্তী সম্ভাব্য সংঘাত ও বোমাবাজির আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো, দুই দফার ভোট যেভাবে বড় কোনো রক্তপাতহীনভাবে সম্পন্ন হয়েছে, গণনার পরেও যেন সেই ধারা বজায় থাকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের যৌথ নজরদারিতে রাজ্যজুড়ে এখন হাই-অ্যালার্ট জারি রয়েছে।