বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার! জয়ের উল্লাসের মাঝেই শুরু মুখ্যমন্ত্রী পদের হাইভোল্টেজ লড়াই
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে সৃষ্টি হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই প্রথমবারের মতো রাজ্যের শাসনভার হাতে নিতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭টি আসনে এগিয়ে থেকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে গেরুয়া শিবির। তবে জয়ের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের সমান্তরালে এখন রাজ্য রাজনীতিতে সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কে বসছেন নবান্নের মসনদে? নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া ‘ভূমিপুত্র’ তত্ত্বকে সামনে রেখে এখন মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
শুভেন্দু না কি শমীক, কার পাল্লা ভারী?
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এই মুহূর্তে সবথেকে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর থেকেই তিনি রাজ্যের বিজেপির প্রধান মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গত পাঁচ বছরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন এবং সাংগঠনিক স্তরে কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে তার সক্রিয় ভূমিকা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লড়াইয়ের ময়দানে পরীক্ষিত শুভেন্দুই হতে পারেন দলের প্রথম পছন্দ।
তবে দৌড়ে পিছিয়ে নেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। আরএসএস-ঘনিষ্ঠ এবং সুবক্তা হিসেবে পরিচিত শমীক বরাবরই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুডবুকে রয়েছেন। ২০১৪ সালে বিজেপির প্রথম বিধায়ক হিসেবে তার জয় দলকে বাংলায় জমি শক্ত করতে সাহায্য করেছিল। শুভেন্দুর আক্রমণাত্মক মেজাজের বিপরীতে শমীকের মার্জিত ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবমূর্তি তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।
তালিকায় রয়েছেন দিলীপ ও সুকান্ত
রাজ্য রাজনীতিতে জনপ্রিয়তার নিরিখে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এখনও এক বড় শক্তি। ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বাংলায় বিজেপির যে উত্থান ঘটেছিল, তার প্রধান কারিগর ছিলেন তিনিই। খড়গপুর সদর থেকে জয়ের পথে থাকা দিলীপের লড়াকু মানসিকতা দলের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থাভাজন স্বপন দাশগুপ্তর নাম নিয়েও জল্পনা জারি রয়েছে।
তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তকমা ঘোচাতে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বজায় রাখতে কাকে বেছে নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দিল্লির কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড। এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের নতুন অধিপতি কে হন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।