৬০ পেরোলেই চিকিৎসার দুশ্চিন্তা? এই বিমাতেই সুরক্ষিত থাকবে আপনার সঞ্চয়!

বার্তা ডেস্কঃ

স্বাস্থ্যবিমা নির্বাচনে সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পের সমীকরণ

বর্তমানে চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান খরচের কথা মাথায় রেখে সঠিক স্বাস্থ্যবিমা বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই একাধিক বিকল্প রয়েছে, তবে কোনটি বেশি উপযোগী তা নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক প্রয়োজনীয়তা এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর। সরকারি প্রকল্পগুলোর মূল সুবিধা হলো প্রিমিয়ামের ঝামেলাহীন সুবিধা এবং সাশ্রয়ী সুরক্ষা। উদাহরণস্বরূপ, ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (AB-PMJAY) প্রান্তিক পরিবারগুলিকে আর্থিক সুরক্ষা দেয়, আবার ‘আয়ুষ্মান বয় বন্দনা’ প্রকল্পের মাধ্যমে ৭০ ঊর্ধ্ব নাগরিকদের কোনো আয়ের শর্ত ছাড়াই ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। একইভাবে, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করছে।

বেসরকারি বিমার সুবিধা ও সতর্কতা

সরকারি প্রকল্পের বাইরে বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা পলিসিগুলো গ্রাহককে অধিক স্বাধীনতা ও সুবিশাল হাসপাতাল নেটওয়ার্কের সুবিধা প্রদান করে। বিশেষ কিছু পলিসিতে আগে থেকে থাকা রোগের (Pre-existing diseases) চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও, এগুলি কেনার আগে পলিসির শর্তাবলী সতর্কতার সঙ্গে পড়া প্রয়োজন। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে প্রিমিয়ামের হার বৃদ্ধি, ওয়েটিং পিরিয়ড, কো-পেমেন্ট বা রুম রেন্টের সীমাবদ্ধতার মতো বিষয়গুলো পলিসি গ্রহণের আগে খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের বিমা একসঙ্গে বজায় রাখা যেতে পারে, তবে এক্ষেত্রে প্রিমিয়াম এবং হাসপাতালের নেটওয়ার্কের বিষয়গুলো আগেভাগেই যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

এক ঝলকে

  • সরকারি সুরক্ষা: ‘আয়ুষ্মান বয় বন্দনা’ প্রকল্পে ৭০ ঊর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার বিমা সুবিধা, যেখানে নেই কোনো আয়ের সীমা।
  • রাজ্য প্রকল্প: পশ্চিমবঙ্গের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’ বিশেষত সেই পরিবারগুলোর জন্য, যারা বর্তমানে আয়ুষ্মান ভারতের আওতাভুক্ত নন।
  • বেসরকারি বিমার শর্ত: পলিসি গ্রহণের আগে ওয়েটিং পিরিয়ড, প্রিমিয়াম বৃদ্ধি এবং রোগের কভারেজ সংক্রান্ত শর্তাবলি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া আবশ্যক।
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি বিমার সমন্বয় করা সম্ভব, তবে হাসপাতালের নেটওয়ার্ক ও খরচের সীমা যাচাই করা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *