দল গড়ার স্বাধীনতা ছিল না, ভারতীয় ক্রিকেটের সেই অন্ধকার নিয়ে বিস্ফোরক সচিন!
বার্তা ডেস্কঃ
অধিনায়ক হিসেবে স্বাধীনতা পাননি, বোর্ডকেও দুষলেন সচিন তেন্ডুলকর
নিজস্ব প্রতিবেদন: দীর্ঘ দিন পর নিজের অধিনায়কত্ব নিয়ে মুখ খুললেন ক্রিকেট কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর। অধিনায়ক হিসেবে নিজের সাফল্য না পাওয়ার পেছনে বোর্ডের অসহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় স্বাধীনতার অভাবকে দায়ী করেছেন তিনি।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে ভক্তদের মুখোমুখি হয়ে সচিন জানান, ভারতের অধিনায়ক হওয়া সব সময়ই গর্বের বিষয়। কিন্তু সেই সময় তিনি দলের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাধীনতাটুকু পাননি। এমনকি, নিজের পছন্দের দল গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।
নব্বইয়ের দশকের ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পেশাদারিত্বের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে সচিন বলেন, “বিসিসিআই এখন যতটা পেশাদার, নব্বইয়ের দশকে ততটা ছিল না। সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেট এক অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।” উল্লেখ্য, সচিনের অধিনায়কত্বের শেষ দিকেই ভারতীয় ক্রিকেটে ম্যাচ গড়াপেটার মতো বিতর্কিত ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধিনায়ক হিসেবে সচিনের সাফল্য ছিল সীমিত। টেস্ট ফরম্যাটে ২৫টি ম্যাচের মধ্যে তিনি জয় পেয়েছেন মাত্র ৪টিতে, হেরেছেন ৯টিতে এবং ১২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। একদিনের ক্রিকেটে ৭৩টি ম্যাচের মধ্যে ২৩টি জয় এবং ৪৩টি ম্যাচে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে তাঁকে।
১৯৯৬-১৯৯৭ এবং ১৯৯৯-২০০০—দুই দফায় ভারতীয় দলের নেতৃত্ব সামলেছেন সচিন। ১৯৯৭ সালে তাঁকে সরিয়ে মহম্মদ আজহারউদ্দিনকে অধিনায়ক করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের পর আবারও সচিনের কাঁধে নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, তবে এক বছর পরেই তিনি সরে দাঁড়ান। এরপর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা হয়।
নিজের প্রিয় অধিনায়ক প্রসঙ্গে সচিন বলেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং মহেন্দ্র সিংহ ধোনি—উভয়েই তাঁর পছন্দের। তবে এই দুজনের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে অস্বীকার করেছেন তিনি। সচিনের এই অকপট স্বীকারোক্তি নব্বইয়ের দশকের ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরের পরিস্থিতির ওপর নতুন করে আলোকপাত করল।