এআই দিয়ে লেখা গবেষণাপত্র ধরার সহজ উপায়!

বার্তা ডেস্কঃ

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে গবেষণাপত্রে: বাড়ছে প্লেজিয়ারিজম শনাক্তকরণের চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে গবেষণাপত্র প্রণয়নে নৈতিকতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চ্যাটজিপিটিসহ বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করে গবেষণাপত্র লেখার প্রবণতা বাড়ায় চিরাচরিত প্লেজিয়ারিজম শনাক্তকারী সফটওয়্যারগুলোও সমস্যার মুখে পড়ছে। এতে মৌলিক ও সৃজনশীল গবেষণার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

বর্তমানে ‘আইথেনটিকেট’ (iThenticate), ‘টার্নইটইন’ (Turnitin), ‘গ্রামারলি’ বা ‘ক্যুইলবট’-এর মতো উচ্চমানের সফটওয়্যারগুলো গবেষণার জালিয়াতি ধরার কাজে ব্যবহৃত হলেও, এআই-এর দ্রুত পরিবর্তনের কারণে সেগুলোও নির্ভুল ফলাফল দিতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে এআই শনাক্তকরণ সফটওয়্যারগুলো মৌলিক লেখাকে ভুলবশত ‘প্লেজিয়ারিজম’ বা ‘এআই টেক্সট’ হিসেবে চিহ্নিত করছে, যা গবেষকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বাজারে থাকা ফ্রি এআই শনাক্তকরণ অ্যাপগুলো চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে তৈরি জালিয়াতি ধরতে অনেকাংশে ব্যর্থ হচ্ছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক সনাতন চট্টোপাধ্যায় গবেষণার মৌলিকতা রক্ষা এবং মেধার অপচয় রোধে এআই-এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন বিভাগে এআই ব্যবহার করে লেখা হচ্ছে। অনেক সময় টেকনিক্যাল শব্দের ভুল পরিবর্তনের ফলে গবেষণাপত্রের মূল অর্থই বদলে যাচ্ছে।” আগে উচ্চমানের সফটওয়্যারগুলো লাইব্রেরির অধীনে সহজলভ্য থাকলেও এখন ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভিত্তিতে বিদেশ বা ভিন রাজ্যের মাধ্যমে চেক করানোর প্রবণতা বেড়েছে, যা স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করছেন তিনি।

তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অমিতাভ গুপ্তের মতে, পরিকাঠামোগত অভাব নেই, বরং সচেতনতার অভাব রয়েছে। তিনি জানান, ইউজিসির ইনফ্লিবনেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির মাধ্যমে প্লেজিয়ারিজম চেক করা সম্ভব এবং এআই শনাক্ত হওয়া পেপারগুলো পুনরায় লিখতে বাধ্য করা হচ্ছে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সায়েন্সের অধ্যাপক গৌতম মাইতি সতর্ক করে জানান, এআই অনেক সময় এমন তথ্যসূত্র বা সাইটেশন প্রদান করছে যার বাস্তব অস্তিত্ব নেই। তিনি বলেন, “এআই দিয়ে তৈরি কাল্পনিক তথ্যসূত্রগুলো ধরা পড়লেও, অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে প্রম্পট দিয়ে লেখা গবেষণাপত্র শনাক্ত করা বেশ কঠিন।”

সব মিলিয়ে, কেবল সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি গবেষণাপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পাঠ করা এবং তথ্য যাচাই করার ওপরই জোর দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, গবেষণার নৈতিকতা ও মান ধরে রাখতে এখন সফটওয়্যারের চেয়ে শিক্ষকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ভূমিকাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *