পঞ্চাশ বছর পর বাংলায় ফিরল ডবল ইঞ্জিন জমানা, ইতিহাস গড়ে মসনদে বিজেপি

পাঁচ দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন সূচিত হলো। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ঘাসফুল শিবিরের আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এল ভারতীয় জনতা পার্টি। এই জয়ের ফলে ১৯৭২ সালের পর পশ্চিমবঙ্গ আবার একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যে সমাদৃত রাজনৈতিক দলের শাসনাধীনে প্রবেশ করল, যা রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার হিসেবে পরিচিত।

অর্ধশতক পর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই মুহূর্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ১৯৭২ সালে কেন্দ্রে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের সময় পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। সেই সময় দিল্লি ও কলকাতার প্রশাসনিক সমন্বয় ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘ ৫০ বছর পর মোদি-শাহের নেতৃত্বে সেই একই সমীকরণ ফিরে এল বঙ্গে। বিহারে এনডিএ-র সাফল্যের রেশ ধরে এবার বাংলাতেও গেরুয়া শিবির তাদের জয়যাত্রা নিশ্চিত করল।

পরিবর্তনের কারিগর ও আগামীর প্রভাব

বিজেপি নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার ছিল এই ‘ডবল ইঞ্জিন’ তত্ত্ব। তাঁদের দাবি ছিল, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বাংলার উন্নয়ন থমকে রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা সেই তত্ত্বে সিলমোহর দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করলে রাজ্যের অর্থনীতি, শিল্পায়ন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় পর আসা এই প্রশাসনিক কাঠামো বাংলার সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির কতটুকু আমূল পরিবর্তন আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *