ভোটের অংকে ওলটপালট: সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসিয়ে তৃণমূলের মাথাব্যথা বাড়াল বাম-কংগ্রেস জোট!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান শক্তির উৎস ছিল সংখ্যালঘু ভোট। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ঘাসফুলের সেই নিরেট ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ভাঙন ধরেছে। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শাসকদলের একাধিপত্য খর্ব করে নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বাম, কংগ্রেস এবং আইএসএফ-এর মতো দলগুলো। মূলত ভোট বিভাজন এবং মেরুকরণের সমীকরণই তৃণমূলের এই দুর্গের পতন ঘটিয়েছে।

মুর্শিদাবাদ ও মালদহে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তন

সংখ্যালঘু ভোটের এই পালাবদলের সবচেয়ে বড় প্রতিফলন দেখা গেছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। জেলার ১৭টি মুসলিমপ্রধান আসনের মধ্যে ডোমকল ও ফরাক্কার মতো এলাকায় বাম-কংগ্রেস প্রার্থীদের জয় শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের প্রভাব তৃণমূলের নিশ্চিত জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মালদহ জেলাতেও ছবিটা প্রায় একই রকম; সেখানে কংগ্রেস আসন না পেলেও উল্লেখযোগ্য ভোট টেনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইভিএমের চূড়ান্ত ফলে।

ভোট বিভাজনের প্রভাব ও গেরুয়া শিবিরের সুবিধা

দক্ষিণবঙ্গের চিত্রটিও শাসকদলের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের ব্যবধান বৃদ্ধি কিংবা বীরভূমের অধিকাংশ আসনে তৃণমূলের পরাজয় প্রমাণ করে যে, সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ এখন আর এককভাবে তৃণমূলের পকেটে নেই। ভাঙড়, ক্যানিং ও মগরাহাটের মতো এলাকায় আইএসএফ ও বামেদের ভোট প্রাপ্তি তৃণমূলের জয়ের মার্জিন কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, বাম ও কংগ্রেস সংখ্যালঘু ভোট টানতে সফল হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে হিন্দু ভোটের এককাট্টা মেরুকরণ ঘটেছে, যা প্রকারান্তরে সুবিধা করে দিয়েছে বিজেপি বা পদ্ম শিবিরকে।

নদিয়া থেকে উত্তর দিনাজপুর—সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের পুরনো ‘ভোটব্যাঙ্ক’ এখন বহুমুখী বিনিয়োগে বিভক্ত। কোথাও সেই ভোট গিয়েছে বামেদের ঝুলিতে, কোথাও বা হাত শিবিরে। এই রাজনৈতিক রদবদল রাজ্যের আগামীর ক্ষমতার লড়াইকে এক নতুন ও জটিল মোড় এনে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *