বাংলায় চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত, ঘরে বসেই মিলবে ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা!
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন দিগন্ত। নবনির্বাচিত সরকার গঠনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন, বাংলার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই অনুমোদিত হতে চলেছে ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার বাংলার সাধারণ মানুষ বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পেতে চলেছেন। কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের সুবিধা জনমানসে পৌঁছে দিতে আবেদন প্রক্রিয়াকেও করা হয়েছে ডিজিটাল ও অত্যন্ত সহজসাধ্য।
এক নজরে আয়ুষ্মান ভারত ও বাংলার প্রেক্ষাপট
গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক ধারার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পর প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের উন্নয়ন ও জনস্বার্থই হবে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্যেই প্রথম মন্ত্রিসভায় আয়ুষ্মান ভারত স্কিমকে সবুজ সংকেত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া লক্ষ লক্ষ পরিবার বড় অঙ্কের চিকিৎসার খরচ থেকে মুক্তি পাবে। মূলত দরিদ্র ও অভাবী মানুষের জন্য তৈরি এই সুরক্ষা কবচ সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে উন্নত মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
কার্ড তৈরির সহজ পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
এখন আর আয়ুষ্মান কার্ডের জন্য সরকারি দপ্তরে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোনের মাধ্যমেই ঘরে বসে এই কার্ড তৈরি করা সম্ভব। আবেদনকারীর কাছে আধার কার্ড, রেশন কার্ড, আয়ের শংসাপত্র (ইনকাম সার্টিফিকেট) এবং লেবার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট থাকা আবশ্যক। প্রক্রিয়ার শুরুতে মোবাইলে ‘আয়ুষ্মান অ্যাপ’ ডাউনলোড করে ‘বেনিফিশিয়ারি’ হিসেবে লগ ইন করতে হবে। এরপর আধার সংযুক্ত মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি (OTP) দিয়ে ভেরিফিকেশন সেরে নিতে হবে।
ই-কেওয়াইসি ও ডাউনলোড
অ্যাপে লগ ইন করার পর রাজ্য ও প্রকল্পের নাম (PMJAY) নির্বাচন করে নিজের আধার নম্বর বা রেশন কার্ড নম্বর দিয়ে যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। আবেদনকারী এই প্রকল্পের যোগ্য হলে দ্রুত ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করতে হবে। প্রক্রিয়াটি সফলভাবে শেষ হলেই ডিজিটাল আয়ুষ্মান কার্ড প্রস্তুত হয়ে যাবে, যা পিডিএফ (PDF) আকারে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, যারা নিয়মিত আয়কর প্রদান করেন বা সংগঠিত ক্ষেত্রে উচ্চপদে কর্মরত, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। মূলত প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই ডিজিটাল উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানের আকাশছোঁয়া চিকিৎসার খরচের বাজারে এই কার্ড সাধারণ মানুষের জন্য এক বিরাট স্বস্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।