ভোট মিটতেই শ্রীঘরে তৃণমূল সাংসদের ভাগ্নে, উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদে পুলিশের বড় পদক্ষেপ

মুর্শিদাবাদের নওদায় নির্বাচনী উত্তেজনা ও অশান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সফিউজ্জামান শেখ ওরফে হাবিব। সোমবার রাতে ভোটগণনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই তাঁর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত সফিউজ্জামান মুর্শিদাবাদের তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খানের ভাগ্নে এবং নওদা ব্লক তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে পরিচিত।

অশান্তিতে উস্কানি ও পুলিশের অভিযান

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচনের দিন নওদায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের সমর্থকদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ ওঠে, ব্লক সভাপতি সফিউজ্জামান সেই অশান্তিতে সরাসরি মদত দিয়েছিলেন এবং এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। বেলডাঙার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আনন্দজিৎ হোড় জানিয়েছেন, ধৃতের বিরুদ্ধে গুন্ডাগিরি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর পাশাপাশি একাধিক পুরনো মামলাও রয়েছে। সোমবার গভীর রাতে নওদা থানার পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকে আটক করার পর নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারি নিশ্চিত করে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খান একে নির্বাচন কমিশনের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যেই তাঁর ভাগ্নেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, নওদার জয়ী প্রার্থী হুমায়ুন কবীর এই পদক্ষেপকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা হিসেবে চিহ্নিত করে কটাক্ষ করেছেন। মঙ্গলবার ধৃত নেতাকে বহরমপুর জেলা আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। সফিউজ্জামানের অনুগামীরা আদালতে ভিড় জমাতে পারেন, এই আশঙ্কায় আদালত চত্বরে নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারির ফলে এলাকায় রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *