‘মমতা ও ভাইপোকে জেলেই দেখতে চাই!’ পানিহাটি জিতেই তৃণমূলের মূল উপড়ে ফেলার হুঙ্কার রত্না দেবনাথের
কলকাতা, ৫ মে ২০২৬: দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় বইছে গেরুয়া ঝড়। ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন আরজি করের নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটি কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি এখন বিধানসভার পথে।
চ্যালেঞ্জের মুখে স্বাস্থ্য দফতর
ভোট গণনার ফল প্রকাশের পর রত্না দেবনাথ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর লড়াই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের। বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এই জয় পানিহাটির সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের জয়। আমার মেয়ে মা দুর্গাকে ভালোবাসত, সে-ই বাংলায় পদ্ম ফুটিয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বিধানসভায় গিয়ে তাঁর প্রথম কাজ হবে স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতির শিকড় খুঁজে বের করা। উল্লেখ্য, এই দফতরের মন্ত্রী ছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রত্না দেবনাথের দাবি, তাঁর মেয়ে যে দুর্নীতির শিকার হয়েছিল, তার শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি।
দুর্নীতি ও থ্রেট কালচারমুক্ত পানিহাটির ডাক
দীর্ঘদিন ধরে পানিহাটি এলাকায় চলা ‘ঘোষ পরিবারে’র একাধিপত্য ও ‘থ্রেট কালচার’ থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রত্না। জয়ের পর তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমি বলেছিলাম তৃণমূলকে নর্দমায় উপড়ে ফেলব, আমি তা পেরেছি। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপোকে জেলে দেখতে চাই।” তাঁর মতে, এই জয় মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে প্রথম পদক্ষেপ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরজি কর কাণ্ডের পর রত্না দেবনাথের এই জয় এবং বিজেপি-র ক্ষমতায় আসা রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম নিয়ে নবনির্বাচিত এই বিধায়কের অনড় অবস্থান আগামী দিনে বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী পক্ষের সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে।