কলকাতায় বাড়ির সামনে উদ্ধার তৃণমূলের বুথ এজেন্টের দেহ, রণক্ষেত্র বেলেঘাটা
ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক অস্থিরতা দানা বাঁধছে। এরই মধ্যে কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায় বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক নামে এক তৃণমূল কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়ির সামনে থেকেই তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত যুবক নির্বাচনের দিন তৃণমূলের বুথ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে জানা গেছে।
রহস্যজনক ফোন এবং হত্যাকাণ্ড
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বিশ্বজিৎকে বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছিল। সারাদিন তিনি ঘরেই ছিলেন। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ একটি ফোন কল পাওয়ার পর তিনি তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির অদূরেই তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। উদ্ধারকাজের সময় তাঁর পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
হিংসার আবহে ঘনীভূত রাজনৈতিক বিতর্ক
নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুর থেকেই টালিগঞ্জ, কামারহাটি, বরাহনগর এবং কসবা-সহ একাধিক জায়গায় শাসকদলের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এই ধারাবাহিক হিংসার মধ্যেই বেলেঘাটার এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলা হলেও, এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি। বেলেঘাটা থানা এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল পরবর্তী এই ধরনের বিচ্ছিন্ন হিংসা এবং মৃত্যু রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পুলিশি তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে।