বঙ্গভূমে ঐতিহাসিক পালাবদল, ৯ জেলায় শূন্য হাতে ফিরল তৃণমূল!
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে দীর্ঘদিনের আধিপত্য হারিয়ে কার্যত ধসে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, এমনকি কলকাতার রাজপথেও এবার ফুটেছে গেরুয়া ফুল। রাজ্যের ৪২টি জেলার মধ্যে ৯টিতে একটি আসনও জয় করতে পারেনি শাসক দল। উচ্চবর্ণ থেকে শুরু করে মতুয়া, রাজবংশী এবং আদিবাসী—সব স্তরের মানুষের জনসমর্থন হারানোর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এখন অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে।
বিপর্যস্ত তৃণমূলের দুর্গ ও জঙ্গলমহল জয়
এক সময় জঙ্গলমহল ছিল তৃণমূলের বড় ভরসাস্থল। কিন্তু এবারের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সেখানে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার মতো আদিবাসী অধ্যুষিত জেলাগুলোতে একটি আসনও পায়নি তৃণমূল। জঙ্গলমহলের মোট ৪০টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতেই জয়লাভ করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের চিত্রটিও শাসক দলের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৪১টি, আর তৃণমূল মাত্র ১৩টি। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় একটি আসনেও জয় পায়নি তৃণমূল। এমনকি খোদ কলকাতায়, যেখানে গত তিনবার তৃণমূল একচ্ছত্র জয় পেয়েছিল, সেখানেও এবার ১১টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জিতেছে বিজেপি।
পরিবর্তনের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূলের এই ভরাডুবির পেছনে কাজ করেছে সর্বস্তরের জনরোষ এবং বিরোধী শিবিরের সুসংহত প্রচার। দুর্নীতি ইস্যু এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ভোটারদের ক্ষোভ স্পষ্ট হয়েছে ইভিএমে। বিশেষ করে জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও মতুয়া ভোটব্যাংক পুরোপুরি তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলোতেও বড়সড় থাবা বসিয়েছে বিজেপি এবং অন্যান্য দল। মুর্শিদাবাদে গতবার ২০টি আসনে জিতলেও এবার তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৯টি আসন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে গেল। একদিকে যেমন বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি নতুন মাত্রা পেল, অন্যদিকে এক সময়ের অপরাজেয় তৃণমূল কংগ্রেস এখন গভীর অন্তর্দ্বন্দ্ব ও জনবিচ্ছিন্নতার মুখে। আগামী দিনে নদিয়া, হুগলি বা পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলোতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এই জয় যেমন বিজেপির জন্য ক্ষমতার পথ প্রশস্ত করল, তেমনই রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে কংগ্রেস ও বামেদের ক্ষুদ্র উপস্থিতিও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।