“আমি এবার ফ্রি বার্ড, আর মুখ্যমন্ত্রী নই!” বাংলায় হারলেও দিল্লির মসনদ কাঁপাতে বড় ঘোষণা মমতার
বাংলার মসনদ হাতছাড়া হলেও দমে যেতে রাজি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরাজয়কে মেনে নিয়ে বরং জাতীয় রাজনীতিতে বৃহত্তর ভূমিকার ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর নিজের ভবিষ্যৎ রণকৌশল স্পষ্ট করে তিনি জানিয়েছেন, এবার তিনি একজন ‘ফ্রি বার্ড’ বা মুক্ত বিহঙ্গ হিসেবে সর্বভারতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করতে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।
মুখ্যমন্ত্রিত্বের মায়া ত্যাগ করে জাতীয় মঞ্চে নজর
মঙ্গলবার কালীঘাটে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের চেয়ে এখন বিরোধী ঐক্যই তার প্রধান অগ্রাধিকার। পরাজয়ের গ্লানি সরিয়ে রেখে তিনি বলেন, “এবার আমি ফ্রি বার্ড। আর মুখ্যমন্ত্রী নই। আমি সাধারণ কর্মীর মতো ইন্ডিয়া জোট শক্তিশালী করব।” মমতা জানান, ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে শুরু করে অখিলেশ যাদব ও তেজস্বী যাদব—প্রত্যেকেই তৃণমূল নেত্রীর লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
গণতন্ত্র রক্ষা ও ভোট চুরির অভিযোগ
পরাজয়ের কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা। তার দাবি, দিল্লি থেকে গণনা কেন্দ্রগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মমতার এই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে রাহুল গান্ধীর কণ্ঠেও। সামাজিক মাধ্যমে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, বাংলা ও অসমে ভোট চুরি হয়েছে, যা আদতে বিজেপির একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড তৃণমূল নেত্রীর লড়াইকে সমর্থন জানালেও দলের অভ্যন্তরে যারা তৃণমূলের হারে উল্লাস করছেন, তাদের সতর্ক করে দিয়েছেন রাহুল।
জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন রণকৌশল জাতীয় রাজনীতিতে মেরুকরণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাজ্য শাসনের চাপমুক্ত হয়ে মমতা সরাসরি দিল্লির মসনদকে চ্যালেঞ্জ জানালে ইন্ডিয়া জোটের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। বিশেষ করে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে রাহুল গান্ধীর এই সমন্বয় আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের সমীকরণকে আরও সুসংহত করবে। প্রশাসনিক প্রধান থেকে একজন ‘ছোট্ট কর্মী’ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার মাধ্যমে মমতা মূলত বিরোধী শিবিরের সেনাপতি হওয়ার লক্ষ্যেই এক ধাপ এগিয়ে থাকলেন।