১৫ বছর পর সিঙ্গুরে শিল্প ফিরবে কি? শুভেন্দুর বড় ইঙ্গিতে শোরগোল!
নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর: সিঙ্গুরে বিনিয়োগ নিয়ে অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬’ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ইকো পার্কে নতুন এই শিল্পনীতির প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিঙ্গুরে শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সিঙ্গুরে শিল্প স্থাপনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এই লক্ষ্যে দেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘অশোক লেল্যান্ড’-এর সঙ্গে ৬৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। তবে সেখানে ঠিক কী ধরনের কারখানা তৈরি হবে বা সিঙ্গুরে আদৌ গাড়ি শিল্প ফিরবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা করা হয়নি।
নতুন এই শিল্পনীতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য একাধিক আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধার কথা রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি পরিষেবা ও অলাভজনক সংস্থাগুলিকেও বিশেষ ইনসেনটিভ দেওয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে বিদ্যুতের শুল্ক ও স্টাম্প ডিউটিতে ছাড়ের ব্যবস্থাও থাকছে।
জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে রাজ্য সরকার এ দিন বড়সড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে। সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণের বদলে জমির মালিকদের কাছ থেকে বাজারদরে সরাসরি জমি কেনার নীতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শিল্পের জন্য ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে প্রশাসনের তরফে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’-এ বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে অনলাইনে শিল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর মাত্র ১০৫ দিনের মধ্যে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কারখানা তৈরির অনুমতি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রুগ্ন শিল্পগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাবে শিক্ষিত যুবসমাজের ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা রুখতে নতুন এই শিল্পনীতি কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের শিল্পমহল।