বাংলার শিল্পে নতুন জোয়ার, আপনি কি প্রস্তুত?
বার্তা ডেস্কঃ
রাজ্যের শিল্প ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, দায় চাপালেন বাম জমানার ওপর
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের শিল্প ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর বর্তমান বেহাল দশা নিয়ে শিল্পমঞ্চ থেকে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বর্তমান সংকটের জন্য মূলত অতীতের বাম জমানার ভ্রান্ত নীতিকেই দায়ী করেছেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাম জমানায় আগ্রাসী ট্রেড ইউনিয়ন ও ধর্মঘটের সংস্কৃতির কারণে চিত্তরঞ্জন থেকে হলদিয়া পর্যন্ত শিল্পাঞ্চল কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। এর জেরে পাট, চা ও অন্যান্য উদীয়মান শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ে। তাঁর দাবি, বাম সরকারের বিনিয়োগবিরোধী নীতি এবং নির্দিষ্ট ভূমি নীতির অভাবই পশ্চিমবঙ্গকে পিছিয়ে দিয়েছে।
রাজ্যের বর্তমান করুণ আর্থিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের ওপর বর্তমানে ৮ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল ঋণভার রয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাবে রাজ্যের ২ কোটিরও বেশি শিক্ষিত যুবক বেকার এবং জীবিকার সন্ধানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ শ্রমিক ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
অতীতের ভূমি অধিগ্রহণ নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে ২০০৭ সালের ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জমি অধিগ্রহণের আইনি এক্তিয়ার নেই জেনেও নিজের দলের চাপে তা উপেক্ষা করেছিলেন, যার পরিণতিতেই নন্দীগ্রামে মর্মান্তিক গণহত্যার ঘটনা ঘটে।
২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তারও সমালোচনা শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তাঁর মতে, উদ্যোক্তাদের নিজ দায়িত্বে জমি কেনার নির্দেশ দেওয়া একজন প্রশাসকের সঠিক পদক্ষেপ ছিল না, যা শিল্পায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতির বদল ঘটাতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিজেপি শাসিত কেন্দ্রের ২০১৩ সালের সংশোধিত ভূমি ক্রয় আইন গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিল্পায়নের গতি বাড়াতে ‘ল্যান্ড পুলিং’ বা ভূমি পুলিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে ৩৩টি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও শিল্পপতিদের হাতে জমির কাগজ তুলে দিয়ে রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থানের দিশা দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।