জোড়া আসনে শুভেন্দুর জয়জয়কার, কড়া নিরাপত্তায় মোড়া শান্তিকুঞ্জ ছেড়ে কলকাতায় মেগাস্টার
বাংলার রাজনীতির আঙিনায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্রেই দাপুটে জয়ের পর মঙ্গলবার সকালে কাঁথির ‘শান্তিকুঞ্জ’ থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। একদিকে যখন তাঁর বাড়ির নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য পুলিশ, অন্যদিকে তখন নতুন সরকার গঠন ও মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে তৎপরতা তুঙ্গে।
ব্যস্ত কর্মসূচি ও কলকাতায় পদার্পণ
মঙ্গলবার সকালেই শান্তিকুঞ্জ থেকে কলকাতার পথে বের হন শুভেন্দু অধিকারী। বাড়ি থেকে বেরনোর সময় প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় ও প্রণাম সেরে নেন তিনি। কলকাতায় পৌঁছে সল্টলেকের রাজ্য সদর দপ্তরে কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক ও সাক্ষাৎকারের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। এরপর মুরলীধর সেন রোডে বিজেপির পুরনো দলীয় কার্যালয়েও যাওয়ার কথা রয়েছে নন্দীগ্রামের এই বিধায়কের। মূলত জয়ের পর নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই এই ঠাসা কর্মসূচি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারীর জোড়া সাফল্যের পরই তাঁর বাসভবন শান্তিকুঞ্জের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। রাজ্য পুলিশের বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বাড়ির চারপাশে। এদিকে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসায় কে বসবেন মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসনে, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। আজই রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরিষদীয় দলের বৈঠকের পরই চূড়ান্ত হবে নাম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা এবং রাজ্যে দলীয় জমি শক্ত করার কারিগর হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে। বিধায়কদের বড় অংশের সমর্থন এবং তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর ভর করেই আগামী ২৫ বৈশাখ বাংলায় নতুন সূর্যোদয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আপাতত তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে দিল্লির হাইকম্যান্ডের দিকেই।