নবান্নে নতুন মুখ কে, বিধায়কদের নিয়ে কলকাতায় বৈঠকে বসছেন অমিত শাহ
তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে পশ্চিমবঙ্গের মসনদ দখল করেছে বিজেপি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এবার সবার নজর একটিই প্রশ্নের দিকে—কে হচ্ছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? এই জল্পনার অবসান ঘটাতে এবং দলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করতে সরাসরি রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সাধারণত রাজ্যে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক পাঠানো বিজেপির দস্তুর হলেও, খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দায়িত্ব গ্রহণ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
অমিত শাহের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও গুরুত্ব
দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, শাহের সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত শাহকে এ ধরনের কাজে খুব কমই দেখা যায়। তবে বাংলার এই জয়কে বিজেপি যে জাতীয় রাজনীতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন। বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম, যিনি একই সঙ্গে বিধানসভায় শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
শপথগ্রহণ ও আগামীর রূপরেখা
এতদিন বিরোধী আসনে থাকা বিজেপি এবারই প্রথম রাজ্যের সরকার পরিচালনা করতে যাচ্ছে। নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ নিয়ে ইতিউতি জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে ৯ মে তারিখটি নিয়ে আলোচনা চললেও, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে যে চূড়ান্ত দিনক্ষণ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই স্থির করবেন। অমিত শাহের এই সফরের পরই মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা এবং শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পালাবদল রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।