শান্তির পথে আসুক পরিবর্তন, নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা কাঞ্চনের
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। দীর্ঘদিনের শাসনকালের অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসনে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। বাংলায় প্রথমবার গেরুয়া শিবিরের সরকার গঠন যখন সময়ের অপেক্ষা, তখন নতুন সরকারকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক মাধ্যমে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন অভিনেতা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক। তাঁর বার্তায় যেমন রয়েছে শুভেচ্ছার সুর, তেমনই মিশে আছে এক আশঙ্কার আবেদন— পরিবর্তন যেন রক্তক্ষয়ী না হয়।
২০২১ সালের নির্বাচনে উত্তরপাড়া থেকে জয়ী হয়ে সক্রিয় বিধায়ক হিসেবে কাজ করলেও, এবার তৃণমূলের টিকিট পাননি কাঞ্চন। তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় লড়লেও বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সোমবার ফেসবুকে নিজের অনুভূতির কথা জানান কাঞ্চন। তাঁর মতে, মানুষের অভিযোগ, অনুযোগ ও দীর্ঘদিনের হতাশা থেকেই এই বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। জনসাধারণের রায়কে শিরোধার্য করে তিনি নতুন সরকারের কাছে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রত্যাশা রেখেছেন।
শান্তি বজায় রাখার আহ্বান
কাঞ্চন মল্লিকের পোস্টের মূল উপজীব্য ছিল রাজনৈতিক সহিংসতা রোধের আবেদন। তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি চান বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া আসুক শান্তির পথ ধরে, হিংসার পথে নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সময় প্রায়শই রাজ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, সেই আশঙ্ক থেকেই অভিনেতার এই সতর্কবার্তা। কাঞ্চনের এই অবস্থানকে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার নিরিখে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তারকা মহলে খুশির আমেজ ও আগামীর ইঙ্গিত
শুধু কাঞ্চন মল্লিকই নন, বিজেপির এই বিপুল জয়ে টলিউডের একঝাঁক তারকা অভিনন্দন জানিয়েছেন। সুপারস্টার জিৎ থেকে শুরু করে অঙ্কুশ হাজরা— অনেকেই নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয় যেমন বিজেপির উপর মানুষের অগাধ বিশ্বাসের প্রতিফলন, তেমনই নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং মানুষের উন্নয়নমূলক চাহিদাগুলো পূরণ করা। কাঞ্চনের মতো ব্যক্তিত্বদের এমন ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা আদতে সাধারণ মানুষের মনে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছে।