মনস্কামনা পূরণ, দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার দণ্ডি কেটে কালী মন্দিরে পুজো দিলেন বিজেপি কর্মী
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ও দলীয় সরকারের প্রত্যাশায় ঈশ্বরের কাছে মানত করেছিলেন একনিষ্ঠ কর্মী। সেই মনস্কামনা পূর্ণ হতেই এবার কঠিন এক সংকল্প পালন করলেন তিনি। দীর্ঘ সাত কিলোমিটার পথ দণ্ডি কেটে বড়ঞার কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন বিকাশ ঘোষ নামে এক বিজেপি কর্মী। মঙ্গলবার তাঁর এই কৃচ্ছ্রসাধন দেখতে রাস্তার দুপাশে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
আবেগের জয় ও রাজনৈতিক পটভূমি
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য না মেলায় মুষড়ে পড়েছিলেন নিচুতলার অনেক কর্মী। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই আক্ষেপ মিটেছে। বড়ঞা বিধানসভার শাবলদহ গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ ঘোষ মানত করেছিলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে তিনি দণ্ডি কেটে দেবীর চরণে প্রণাম জানাবেন। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতেই শারীরিক কষ্ট উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এদিন সকালে নিজের গ্রাম শাবলদহ থেকে যাত্রা শুরু করেন বিকাশ। প্রখর রোদ ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে প্রায় সাত কিলোমিটার দণ্ডি কাটেন তিনি। তাঁর এই নিষ্ঠা দেখে কেউ আবেগে ভেসেছেন, আবার অনেকেই মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করেছেন এই বিরল দৃশ্য। শেষ পর্যন্ত বড়ঞা থানার নিকটবর্তী প্রাচীন কালী মন্দিরে পৌঁছে তিনি পুজো সম্পন্ন করেন।
সামাজিক প্রভাব ও তাৎপর্য
সাধারণত ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মঙ্গল কামনায় দণ্ডি কাটার রেওয়াজ বাংলার গ্রামগঞ্জে দেখা যায়। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য দীর্ঘ পথ দণ্ডি কাটার এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যে আদর্শিক আবেগের গভীরতা কতখানি, এই ঘটনা তারই প্রতিফলন। বিকাশের এই উদ্যোগ যেমন দলীয় মহলে প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি ছাপিয়ে এদিন ওই বিজেপি কর্মীর চোখেমুখে ছিল লক্ষ্যপূরণের আত্মতৃপ্তি।