পদ্ম শিবিরে নাম লেখাতে মরিয়া তৃণমূলের কাউন্সিলররা, কলকাতায় এবার কি তবে বড়সড় ভাঙন!

রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে কলকাতা পুরসভা। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল—বিজেপির জয়জয়কারের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে খাস কলকাতায়। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুরে পরাজয় এবং শহরের অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের ভরাডুবি ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে প্রবল কম্পন সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় কলকাতার একঝাঁক তৃণমূল কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

বেহালা থেকে যাদবপুর, টালমাটাল ঘাসফুল শিবির

তৃণমূলের দীর্ঘদিনের নিরাপদ দুর্গ হিসেবে পরিচিত বেহালা, টালিগঞ্জ এবং যাদবপুরে এবার গেরুয়া ঝড় আছড়ে পড়েছে। বিশেষ করে দুই বেহালার চিত্রটি সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ। বেহালা পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় কেন্দ্রেই তৃণমূল প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। সূত্রের খবর, ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে কাউন্সিলর তারক সিং এবং তাঁর পরিবারের অন্য দুই কাউন্সিলর সদস্যকে নিয়ে দলবদলের জল্পনা এখন তুঙ্গে। মেয়রের সঙ্গে মনোমালিন্য এবং বিধানসভায় টিকিট না পাওয়ার অসন্তোষ এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এছাড়া ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের জীবন সাহা এবং মানিকতলা ও জোড়াসাঁকোর একাধিক কাউন্সিলরও গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা যাচ্ছে।

পুরভোটের আগে সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত

আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। বর্তমানে ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপির মাত্র ৩ জন কাউন্সিলর থাকলেও, বিধানসভা নির্বাচনের ফল অনুযায়ী শহরের সিংহভাগ ওয়ার্ডেই লিড পেয়েছে বিজেপি। ২০১০ সাল থেকে টানা ১৬ বছর কলকাতা পুরসভা তৃণমূলের দখলে থাকলেও, এবারের নির্বাচনী অঙ্ক বলছে সেখানে পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল। এই রাজনৈতিক আবহে জয়ী দলের ছাতার তলায় আসতে চাইছেন অনেক কাউন্সিলর। তবে বিজেপি নেতৃত্ব এখনই ঢালাও যোগদানের অনুমতি দিতে নারাজ। পুরভোটের আগে নিজেদের রণকৌশল সাজাতে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করতে আরও কিছুটা সময় নিতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দলবদল বাস্তবায়িত হলে কলকাতা পুরসভার ক্ষমতা দখল বিজেপির জন্য সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *