হারের বিষণ্ণতায় বাবার পরম আশ্রয় কন্যা দেবলীনা, রাসবিহারির ফলাফলের পর আবেগঘন বার্তা অভিনেত্রীর

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রাসবিহারিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা দেবাশিস কুমারের পরাজয় রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে এই হার তাঁর জন্য এক বড় ধাক্কা হলেও, এই কঠিন সময়ে বাবার হাত শক্ত করে ধরলেন কন্যা তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবার প্রতি তাঁর এই নিঃশর্ত ভালোবাসার বার্তা এখন নেটনাগরিকদের চর্চার কেন্দ্রে।

রাসবিহারিতে বড় ধাক্কা দেবাশিস কুমারের

রাসবিহারি কেন্দ্রটি তৃণমূলের গড় হিসেবে পরিচিত হলেও এবারের নির্বাচনে সেখানে পদ্ম শিবিরের দাপট দেখা গিয়েছে। দেবাশিস কুমারের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের এই হার দলের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি করেছে। গণনার শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসতে পারেননি তিনি। এই পরাজয় কেবল একটি আসনের হাতবদল নয়, বরং দেবাশিস কুমারের দীর্ঘ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পথচলায় এক অভাবনীয় মোড়।

‘বাবার জন্য চিরকাল গর্বিত থাকব’

পরাজয়ের খবর আসার পর থেকেই দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ মহলে যখন মনমরা ভাব, ঠিক তখনই বাবার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন দেবলীনা। সমাজমাধ্যমে বাবার সঙ্গে একটি সুন্দর ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন এক আবেগঘন পোস্ট। দেবলীনার কথায়, জয় কিংবা পরাজয়—কোনওটাই তাঁর বাবার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাকে বদলে দিতে পারবে না। তিনি লিখেছেন, “ফলাফল যাই হোক না কেন, আমি তোমার জন্য চিরকাল গর্বিত ছিলাম আর থাকব।” রাজনীতির চড়াই-উতরাই যে পারিবারিক বন্ধনে চিড় ধরাতে পারে না, দেবলীনার এই পোস্ট তারই বড় প্রমাণ।

নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়োলেন দেবলীনা

রাজনীতির ময়দানে হার-জিত থাকাই স্বাভাবিক, কিন্তু কঠিন সময়ে পরিবারের এই সমর্থন অত্যন্ত জরুরি। দেবলীনার এই পোস্ট ভাইরাল হতে বেশি সময় নেয়নি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে টলিউডের সহকর্মীরাও দেবলীনার এই মানসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। নেটিজেনদের একাংশের মতে, বাবার এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের দিনে কন্যার এমন নিঃশর্ত পাশে থাকা কেবল দেবাশিস কুমারকে মানসিকভাবে শক্তি জোগাবে না, বরং তা সমাজের কাছে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

রাজনৈতিক লড়াই চলুক নিজের গতিতে, কিন্তু দিনশেষে একজন পিতার কাছে তাঁর কন্যার এই সমর্থনই যে সবথেকে বড় জয়, তা আবারও প্রমাণিত হলো রাসবিহারির এই প্রেক্ষাপটে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *