৭৯ বছর পর অবশেষে বিদ্যুতের আলোয় ফিরল হুগলির এই গ্রাম!

বার্তা ডেস্কঃ

 

স্বাধীনতার ৭৯ বছর পর আলোর মুখ দেখল হুগলির আদিবাসী গ্রাম, দীপাবলির আগে উচ্ছ্বসিত বাসিন্দারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: স্বাধীনতার সাত দশক পেরিয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় অন্ধকারে দিন কাটিয়েছেন হুগলির তারকেশ্বর বিধানসভার অস্ত্রদত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চকদহ গ্রামের বাসিন্দারা। অবশেষে দীপাবলির প্রাক্কালে সেই গ্রামেই প্রথমবার পৌঁছাল বৈদ্যুতিক আলো। প্রায় ৪০০টি আদিবাসী পরিবার অধ্যুষিত এই গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছানোয় এখন খুশির জোয়ার বইছে।

কৃষিনির্ভর এই গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের পড়ুয়াদের সন্ধ্যের পর লণ্ঠন বা প্রদীপের আলোয় পড়াশোনা করতে গিয়ে নাজেহাল হতে হতো। স্থানীয় বাসিন্দা রুই বাউরি জানান, স্বাধীনতার পর এই প্রথম গ্রামে বিদ্যুৎ এল, যা তাঁদের কাছে এক নতুন জীবনের সূচনার মতো।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগেই গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতা হলেও অজানা কারণে তাতে তার সংযোগ দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান। তাঁর দাবি, ১৯৯৭-৯৮ সাল থেকেই এই গ্রামের বাসিন্দারা বিজেপিকে সমর্থন করে আসছেন, আর সেই কারণেই শাসকদল দীর্ঘদিন তাঁদের বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রেখেছিল। বিধায়কের কথায়, নির্বাচনের সময় তিনি গ্রামবাসীদের কাছে দ্রুত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর উদ্যোগেই গত মাস থেকে জেলা বিদ্যুৎ দফতরের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিপিএল (BPL) তালিকাভুক্ত পরিবারগুলিকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০টি বাড়িতে মিটার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই শতাধিক পরিবার এই পরিষেবার আওতায় চলে আসবে।

বহু বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার প্রদীপের আলোর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক বাতির ঝিলিক দেখা যাবে হুগলির এই আদিবাসী গ্রামে। দীপাবলির উৎসবে সামিল হয়ে এখন বঞ্চনার ইতিহাস ভুলে খুশিতে মেতে উঠেছেন চকদহের বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *