সুর বদলালেন কবীর সুমন, পালাবদলের আবহে কি রাজনৈতিক ডিগবাজি!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পনেরো বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটেছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর ক্ষমতার এই পটপরিবর্তনের ঠিক পরেই প্রবীণ শিল্পী ও প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কবীর সুমনের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত এই শিল্পী এখন দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টায় সরব হয়েছেন, যা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

তৃণমূলের ব্যর্থতা ও সাংগঠনিক ত্রুটি নিয়ে সরব শিল্পী

নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর এক সাক্ষাৎকারে কবীর সুমন স্পষ্ট জানান যে, তিনি কখনও তৃণমূলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন না; বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ অনুরোধেই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছিলেন বলেও দাবি করেন। তৃণমূলের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি ভোট প্রক্রিয়া এবং কর্মসংস্থানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দলের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সুমনের মতে, চাকরির ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রশাসনিক কিছু ভুল পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছিল, যার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বক্সে।

নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা ও বাম-বিকল্পের ইঙ্গিত

রাজ্যে ক্ষমতায় আসা ভারতীয় জনতা পার্টিকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি শিল্পী রাজ্যে নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো তাঁর দ্বিমুখী অবস্থান। একদিকে তিনি বলছেন যে এখনও ভোট হলে তিনি তৃণমূলকেই বেছে নেবেন, অন্যদিকে একটি ‘শক্তিশালী কমিউনিস্ট বিকল্প’ তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে সুমনের এই মন্তব্যগুলো কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান পরিষ্কার করা নয়, বরং আগামী দিনের রাজনীতির মেরুকরণে নিজের প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল হতে পারে। এই অবস্থান বদলকে রাজনৈতিক মহল ‘ডিগবাজি’ হিসেবে দেখলেও, শিল্পী নিজে একে তাঁর স্বতন্ত্র চিন্তা বলেই মনে করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *