পাকিস্তানের অনুরোধে ট্রাম্পের বড় সিদ্ধান্ত, স্থগিত হচ্ছে হরমুজ প্রণালীর ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’

হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে উদ্ধারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত বিশেষ সামরিক অভিযান ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির আশ্বাসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে উদ্ধার অভিযান বন্ধ হলেও এই কৌশলগত জলসীমায় মার্কিন নৌ-অবরোধ আগের মতোই বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

কৌশলগত পিছুটান নাকি কূটনৈতিক সাফল্য

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, পাকিস্তানসহ বেশ কিছু বন্ধুরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযান বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়। তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তজনা নিরসনে আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ। যদিও তেহরান এই ঘটনাকে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতা এবং নিজেদের বিজয় হিসেবে দাবি করেছে। উল্লেখ্য যে, যুদ্ধের পূর্বে যেখানে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত, সেখানে মার্কিন অভিযানের গত দুই দিনে মাত্র তিনটি জাহাজ নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি হামলা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ

অভিযান চলাকালীন হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ স্পষ্ট করেন যে, আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধ চায় না। তিনি জানান, ইরানের আকাশসীমা বা জলসীমা লঙ্ঘন না করেই ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ পরিচালনার সক্ষমতা মার্কিন সেনার রয়েছে। তবে পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য তেহরানকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই স্থগিতাদেশের ফলে বৈশ্বিক তেল বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। আপাতত রণতরিগুলোর অবস্থান ও অবরোধ বজায় রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের এক ধরনের ‘চাপ প্রয়োগের কৌশল’ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *