দীপাবলিতে আকাশছোঁয়া খরচ, কেনাকাটায় কি পকেট ফাঁকা হচ্ছে আপনার?
উৎসবের মরসুমে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি: সাধারণের বাজেটে টান, বাড়ছে দুগ্ধজাত পণ্য ও ড্রাই ফ্রুটসের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীপাবলিকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক সামগ্রী—সর্বত্র মূল্যবৃদ্ধির ছায়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। মুদ্রাস্ফীতির দাপটে শুধু সাধারণ মানুষের উৎসবের বাজেটই প্রভাবিত হচ্ছে না, বরং মিষ্টি প্রস্তুতকারক সংস্থা ও ব্যবসায়ীদেরও উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধি:
উৎসবের মরসুমে দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমূল, কর্ণাটকের নন্দিনী ও তামিলনাড়ুর আবিনের মতো বড় সংস্থাগুলো ঘি, মাখন, দই ও মিষ্টির দাম বাড়িয়েছে। আমূলের ১ কেজি ঘিয়ের দাম ৬৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৮০ টাকা হয়েছে। ৫০০ গ্রাম ঘিয়ের দাম ৩২৫ টাকার বদলে এখন ৩৪০ টাকা। এছাড়া আমূল মাখনের ১০০ গ্রাম প্যাকেটের দাম ৬৩ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের দাম ৩১০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ড্রাই ফ্রুটসের দামে ঊর্ধ্বগতি:
উপহারের প্যাকেটে ব্যবহৃত ড্রাই ফ্রুটসের দাম গত বছরের তুলনায় ব্যাপক হারে বেড়েছে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে পেস্তার দাম ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কাজুবাদামের দাম ৫-৮ শতাংশ, কিশমিশের দাম ২-৫ শতাংশ, খেজুরের দাম ৫-১০ শতাংশ এবং ডুমুরের দাম ৫-১৫ শতাংশ বেড়েছে।
ইলেকট্রনিক সামগ্রীও ব্যয়বহুল:
উৎসবের প্রাক্কালে এসি, টিভি, রেফ্রিজারেটর ও ওয়াশিং মেশিনের মতো ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দাম গত এক বছরে গড়ে ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরে সংস্থাগুলো তিন দফায় দাম বাড়িয়েছে, যার সর্বশেষ প্রভাব পড়েছে অক্টোবর মাসে ৩ থেকে ৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে।
খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব:
ক্রমবর্ধমান খাদ্যপণ্যের দাম মুদ্রাস্ফীতির তথ্যেও স্পষ্ট। সেপ্টেম্বর মাসে খুচরো খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি ৭.৭৪ শতাংশে পৌঁছেছে, আর সামগ্রিক খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৫৪ শতাংশ, যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্ধারিত লক্ষ্যের কাছাকাছি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চিনির দাম ২৯.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় পণ্যের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, মুদ্রাস্ফীতির এই বহুমুখী প্রভাব এ বছর দীপাবলির কেনাকাটায় বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।