ভারত কি এবার বাংলাদেশের এই তিন জেলাও চায়! বিস্ফোরক বিজেপি সাংসদ
বার্তা ডেস্কঃ
নেহরুর সিদ্ধান্তের কারণেই হাতছাড়া হয়েছে নোয়াখালী-সিলেট-চট্টগ্রাম, দাবি বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের
নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতি ও দেশভাগের সময় গুরুতর রাজনৈতিক ভুলের অভিযোগ তুললেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী পদের লোভে নেহরু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে ভারতের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি উপহার হিসেবে দিয়ে দিয়েছিলেন।
সাংসদের দাবি, নোয়াখালী, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বন্দর একসময় ঐতিহাসিক ‘টিপরা’ বা ত্রিপুরা রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম সিং নেহরুর এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। দুবের কথায়, “নোয়াখালী পাকিস্তানকে দেওয়া বা সিলেট ও চট্টগ্রামে গণভোট করানোর সিদ্ধান্তের চরম বিরোধী ছিলেন রাজা।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৯৪৭ সালে নোয়াখালীতে যখন ১০ হাজার হিন্দু গণহত্যার শিকার হন, তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে মুসলিম লিগকে সরকারে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন নেহরু।
চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়াকে দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করে বিজেপি সাংসদ বলেন, এর ফলেই উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন বহু দশক পিছিয়ে গেছে। পাশাপাশি, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারতকে আজ ‘চিকেনস নেক’ করিডোরের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তৎকালীন ইতিহাস নিয়ে আরও বিতর্ক উসকে দিয়ে নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করেন, সিলেটে গণভোট পরিচালনা করা ব্যক্তি বাহারুল ইসলাম মুসলিম লিগের ‘রেড আর্মি’র সদস্য ছিলেন। অথচ কংগ্রেস সরকার পরে তাঁকেই রাজ্যসভার সাংসদ ও পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে উন্নীত করেছিল।
নিশিকান্ত দুবের এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন টিপরা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ত্রিপুরা রাজ্যের বিশাল অঞ্চল তৎকালীন ভারত সরকার আড়ালে রেখে পূর্ব পাকিস্তানকে দিয়ে দিয়েছিল, যার খেসারত আজও দেশকে দিতে হচ্ছে।
পরিশেষে বিজেপি সাংসদ জোর দিয়ে বলেন, এখন সময় এসেছে ইতিহাস সংশোধনের। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্বের উন্নয়নের স্বার্থে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) পাশাপাশি সিলেট, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রাম বন্দর ভারতভুক্ত করার দাবি তুলেছেন তিনি।