বিবৃতি বিকৃত করা হয়েছে! বৃহস্পতিবারের মন্তব্যে সুর বদল বিমান বসুর

বার্তা ডেস্কঃ

 

জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শিল্পনীতি নিয়ে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন বিমান বসু

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের শিল্পনীতি এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়কার জমি অধিগ্রহণ নীতি নিয়ে বৃহস্পতিবার করা মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কিত পরিস্থিতিতে শুক্রবার মুখ খুললেন সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু। তিনি দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবার তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে এবং তিনি কোনো বিভাজনের কথা বলেননি।

বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাম জমানার জমি অধিগ্রহণ নীতির সমালোচনা করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে বিমান বসু মন্তব্য করেছিলেন, “শিল্পনীতি ঘোষণা করেছিলেন কমরেড জ্যোতি বসু। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সেই নীতি কার্যকর করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, তবে তা জ্যোতি বসুরই হয়েছে।” এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক দানা বাঁধে এবং সিপিএমের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়।

শুক্রবার এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিমান বসু বলেন, “আমি কোনো বিভাজনের কথা বলিনি। আমি শুধু বলতে চেয়েছিলাম, আশির দশকে শিল্পনীতি ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। সেই অনুযায়ীই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ একাধিক শিল্প গড়ে উঠেছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, ২০১১ সালের পর রাজ্যে কোনো তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। গত ১৫ বছরের শিল্পের ‘খরা’র দায় বাম জমানার ওপর চাপানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিমানের বৃহস্পতিবারের মন্তব্যে ‘সমস্যা’ বা ‘প্রবলেম’ শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি কৌশলে জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মধ্যে একটি বিভাজনরেখা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। শুক্রবারের ব্যাখ্যায় তিনি সেই বিতর্কিত অংশটি এড়িয়ে যান।

২০০৬ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায় যখন শিল্পায়নের ধারা গতি পায়, তখন বিমান বসু সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় প্রশাসনের সঙ্গে দলের সমন্বয়ে কোনো ফাঁক ছিল কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। সিপিএমের অন্দরের আলোচনায় উঠে আসছে, বুদ্ধদেবের শিল্পনীতির দায় যদি নিতে হয়, তবে সেই দায় তৎকালীন সম্পাদক হিসেবে বিমান বসুর ওপরেও বর্তায়। শুক্রবার বিমান বসুর এই ব্যাখ্যামূলক বিবৃতিকে ‘ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা’ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *