বাসন মাজা থেকে ১৫ রেস্তোরাঁর মালিক, নারায়ণ পূজারীর অবিশ্বাস্য সাফল্যের গল্প!
অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে অভাব জয়: ৩৫ টাকা পুঁজি থেকে কোটি টাকার মালিক নারায়ণ পূজারী
মুম্বই: অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে সামান্য পুঁজি নিয়েও যে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কর্ণাটকের উদুপি জেলার গুজ্জাদি গ্রামের বাসিন্দা নারায়ণ টি. পূজারী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মুম্বই পাড়ি দিয়ে অভাবী কিশোর থেকে আজ তিনি সফল ব্যবসায়ী— তাঁর এই রূপকথার মতো সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।
পারিবারিক আর্থিক অনটনের কারণে খুব কম বয়সে কাজের সন্ধানে মুম্বই পাড়ি দেন নারায়ণ। দক্ষিণ মুম্বইয়ের বিভিন্ন হোটেল ও ক্যান্টিনে কাজ শুরু করলেও, প্রতিকূলতার কাছে মাথা নত করেননি তিনি। দিনে কাজ এবং রাতে পড়াশোনা—এই রুটিনেই কাটত তাঁর জীবন। কাজের সূত্রে মার্চেন্ট নেভির ক্যাডেটদের সান্নিধ্যে এসে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯৯০ সালে মুম্বইয়ের ফোর্ট এলাকায় একটি ছোট আইসক্রিমের দোকান দিয়ে নিজের ব্যবসার যাত্রা শুরু করেন নারায়ণ। দোকান পরিষ্কার থেকে রান্না—সব কাজই তিনি একা হাতে সামলাতেন। ব্যবসার মোড় ঘুরে যায় এক গ্রাহকের পরামর্শে পাও ভাজি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে। ক্রেতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তাঁর হাতের তৈরি পাও ভাজি।
পরবর্তীতে গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে মেন্যুতে পিৎজা ও মেক্সিকানসহ নানা পদ যুক্ত করা হয়। এভাবেই সামান্য আইসক্রিমের দোকান থেকে আজকের পরিচিত ব্র্যান্ড ‘শিব সাগর’ রেস্তরাঁর জন্ম। বর্তমানে মুম্বই, পুনে ও ম্যাঙ্গালুরু মিলিয়ে শিব সাগরের প্রায় ১৫টি শাখা রয়েছে।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পরিসংখ্যানও অত্যন্ত নজরকাড়া। ‘ট্র্যাক্সন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ অর্থবর্ষে এই সংস্থার রাজস্ব ছিল ১০.৬৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫ অর্থবর্ষে বেড়ে ১১১.৪৫ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এক দশকে সংস্থার রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ।
সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেও খাবারের মান ও স্বাদের সঙ্গে কোনোদিন আপস করেননি নারায়ণ। তাঁর মতে, খাবারের তৈরির পদ্ধতি ও গুণগত মানই তাঁকে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাহায্য করেছে। ৩৫ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা সেই কিশোরের জীবনসংগ্রাম আজ কোটি টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে।