বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক, নীরবতা নিয়ে তুললেন প্রশ্ন!

 

নিজের বাসভবনের সামনে বিশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে সরব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে নজরদারি চালানো এবং পরবর্তীকালে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। ঘটনার সূত্রপাত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালনের প্রাক্কালে, যখন তার বাসভবনের সামনে সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়।

অভিষেকের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিলেও কেন একজন সাংসদের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুলিশকে ট্যাগ করে ঘটনার দ্রুত তদন্তের দাবি জানান।

ঘটনার গভীর রাতে অভিষেকের জন্মদিন পালনের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে একদল ব্যক্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেয় এবং সেখানে থাকা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ। অভিষেক দাবি করেন, এই ঘটনায় জড়িতরা বিজেপির কর্মী-সমর্থক। দুপক্ষের মধ্যে বচসা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং অভিষেক পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।

পরবর্তীকালে অভিষেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিজেপির দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। গত ছয় মাসে এটি তাঁর ওপর সপ্তমবার প্রাণনাশের চেষ্টা বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিষেক সরাসরি বিচারব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘এই গোটা ঘটনায় নীরব দর্শক হয়ে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’ তাঁর দাবি, বিচার বিভাগ চোখ বন্ধ করে রাখায় রাজ্যে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালানোর সাহস পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিচারব্যবস্থার সমালোচনা বা আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নতুন নয়। ২০২২ সালে হলদিয়ার শ্রমিক সভায় বিচারব্যবস্থার একাংশের বিরুদ্ধে ‘তল্পিবাহক’ হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এছাড়া ২০২৩ সালেও কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার রায় নিয়ে তিনি তীব্র বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। নিজের জন্মদিনের রাতে ঘটা সাম্প্রতিক এই বিশৃঙ্খলার প্রেক্ষিতেও সাংসদ যেভাবে বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *