বায়ুসেনার প্রাক্তন কর্মী থেকে শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী: চন্দ্রনাথের অকাল প্রয়াণে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, নেপথ্যে কি ষড়যন্ত্র?
রাজ্য রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্ত সহায়ক তথা প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ রথের আকস্মিক মৃত্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনের কঠিন লড়াইয়ের পর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে বুধবার রাতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পেশাগত দায়বদ্ধতা ও সজ্জন ব্যবহারের জন্য পরিচিত এই ব্যক্তির এমন মর্মান্তিক পরিণতি চণ্ডীপুরের কুলটা গ্রামে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। শোকস্তব্ধ মা হাসিরানি দেবী বড় ছেলের খুনিদের কঠোর শাস্তি দাবি করলেও মাতৃত্বের জায়গা থেকে অপরাধীদের ফাঁসি চাননি, বরং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আর্জি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র না ব্যক্তিগত শত্রুতা
ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে অবসর নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করেন চন্দ্রনাথ বাবু। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলানো এই ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য। নিহতের পরিবারের দাবি, কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকার কারণেই তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এই হত্যাকাণ্ড কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তদন্তে প্রশাসন ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ প্রশাসন ইতিপূর্বেই তদন্তের গতি বাড়িয়েছে। চন্দ্রনাথ বাবু সম্প্রতি মধ্যমগ্রামে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকলেও ঘটনার সময় তিনি চণ্ডীপুর থেকে ফিরছিলেন। তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বিবাদ ছিল কি না কিংবা শেষ কয়েক দিনে তাঁর আচার-আচরণে কোনো পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও গুলির ধরণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিরোধী শিবিরের অন্যতম স্তম্ভের ঘনিষ্ঠ কর্মীর এই মৃত্যু রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক ঝলকে
- শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে বুধবার রাতে গুলি করে খুন করা হয়েছে।
- বায়ুসেনার প্রাক্তন এই কর্মী চণ্ডীপুরের কুলটা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং কর্মজীবনে অত্যন্ত সজ্জন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- শোকাতুর মা খুনিদের ফাঁসি না চাইলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
- রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না পরিবার, পুলিশি তদন্ত বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।