নির্বাচনী বিধি প্রত্যাহারে ফিরছে স্বস্তি, তবে ফলতা নিয়ে থাকছে কমিশনের বিশেষ নির্দেশ
দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা নির্বাচনী আবহের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করা হলো আদর্শ আচরণবিধি। বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। গতকালই রাজ্যপালের কাছে জয়ী প্রার্থীদের তালিকা সম্বলিত গেজেট জমা দেওয়ার পর আজ থেকেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং বিভিন্ন উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ৭ মে থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। নির্বাচন সদনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার দিন থেকে যে প্রশাসনিক কড়াকড়ি শুরু হয়েছিল, আজ থেকে তার কার্যকারিতা ফুরিয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুডুচেরি থেকে সার্বিকভাবে বিধি তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও গুজরাট, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের মতো যেসব রাজ্যে উপনির্বাচন ছিল, সেখানেও নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
ফলতায় জারি থাকছে কড়াকড়ি
গোটা রাজ্যে বিধি উঠে গেলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৪৪-ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের চিত্রটি ভিন্ন। কমিশন জানিয়েছে, ওই কেন্দ্রে নতুন করে ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট এলাকায় আদর্শ আচরণবিধি আপাতত বহাল থাকবে। ফলতা বাদে রাজ্যের বাকি সব প্রান্তেই এখন থেকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড চলতে বাধা নেই।
প্রশাসনিক গতি ও উন্নয়নমূলক কাজের সুযোগ
আদর্শ আচরণবিধি উঠে যাওয়ার ফলে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের ওপর থেকে একাধিক আইনি নিষেধাজ্ঞা সরে গেল। এখন থেকে সরকার জনকল্যাণমূলক নতুন প্রকল্পের ঘোষণা এবং থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ পুনরায় শুরু করতে পারবে। ভোটের কারণে প্রশাসনিক বদলি বা নিয়োগ সংক্রান্ত যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তারও সমাধান হবে। মূলত সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা ও সরকারি কাজকর্মে স্বাভাবিক গতি ফেরাতেই কমিশনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্য সচিব ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।