টার্গেট কিলিং! শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক খুনে চাঞ্চল্যকর নথি ফাঁসের আশঙ্কা
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ বলছে, এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি ‘টার্গেট কিলিং’। মধ্যমগ্রামের শুভম গার্ডেনিয়া আবাসনের সামনে যেভাবে তাঁকে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে, তাতে পেশাদার খুনিদের হাত রয়েছে বলে নিশ্চিত তদন্তকারীরা। আজ বিমানবন্দরের কাছ থেকে একটি পরিত্যক্ত মোটরবাইক উদ্ধারের পর পুলিশের অনুমান, ভিন রাজ্যের শার্প শুটাররা খুন সেরে বিমানে করেই চম্পট দিয়েছে।
পরিকল্পিত ছক ও পেশাদার অপারেশন
তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। ঘটনার দিন তাঁর গাড়ি আবাসনের সামনে পৌঁছাতেই একটি চার চাকা গাড়ি রাস্তা আটকে দেয়। সেই সুযোগে দুটি বাইকে আসা আততায়ীরা জানালার কাচে বন্দুক ঠেকিয়ে প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত করেই তারা এলাকা ছাড়ে। এই ঘটনায় চালক বুদ্ধদেব বেড়াও গুরুতর জখম হয়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এসটিএফ, সিআইডি এবং আইবি-র সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। ইতিমদ্যেই সিআইডি অফিসাররা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নেপথ্যে কি রাজনৈতিক নথির লড়াই?
এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, চন্দ্রনাথের কাছে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস জমানার বালি চুরি থেকে শুরু করে একাধিক বেআইনি কার্যকলাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নথি ছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই সমস্ত গোপন তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই বিতর্কিত তথ্য যাতে ফাঁস না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার রেশ পৌঁছেছে জাতীয় রাজনীতিতেও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ খোদ শুভেন্দু অধিকারীকে ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজ নিয়েছেন। বারাসত হাসপাতালে চন্দ্রনাথকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এটি পূর্বপরিকল্পিত ঠান্ডা মাথার খুন। পুলিশকে আগে কাজ করতে দেওয়া হতো না, তবে এখন তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে।” এই হত্যাকাণ্ডের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।