মুম্বই-বেঙ্গালুরুকে পিছনে ফেলে শিশুদের জন্য নরক দিল্লি! ভয়াবহ তথ্য দিল NCRB
জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (NCRB)-র সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সামগ্রিক অপরাধের সংখ্যা ১৫.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে ৩.২ লক্ষের বেশি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল, ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২.৮ লক্ষে। অপরাধের মোট হার কমলেও মহানগরীর আইনশৃঙ্খলার আসল চিত্রটি ফুটে উঠেছে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের তথ্যে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধর্ষণ এবং শিশু অপহরণের মতো গুরুতর ঘটনায় দিল্লি এখনও দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরগুলোর তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে।
নারী ও শিশু নিরাপত্তায় উদ্বেগের ছবি
NCRB-র রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লিতে গত এক বছরে ১,০৫৮টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা জয়পুরের (৪৯৭) দ্বিগুণেরও বেশি। মুম্বইয়ে এই সংখ্যা ৪১১। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো পকসো (POCSO) আইনের আওতায় মামলার সংখ্যা। দিল্লিতে ১,৫৫৩টি পকসো মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে বেঙ্গালুরুতে এই সংখ্যা মাত্র ৫৯৪। শিশুদের বিরুদ্ধে মোট অপরাধের ক্ষেত্রেও দিল্লি শীর্ষে; রাজধানীতে ৭,৬৬২টি এমন ঘটনা ঘটেছে, যা মুম্বই (৩,৩৭৪) বা বেঙ্গালুরুর (২,০২৬) তুলনায় বহুগুণ বেশি। শিশু অপহরণের ভয়াবহতা বোঝাতে রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বেঙ্গালুরুতে ১টি শিশু অপহৃত হলে দিল্লিতে সেই সংখ্যা ৫-এর কাছাকাছি।
সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ ও কিশোর অপরাধের বিস্তার
রাজধানীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পথ-অপরাধ এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত চুরি। ২০২৪ সালে প্রায় ৪০ হাজার গাড়ি চুরির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ১০,৬৯০টি বাড়িতে চুরির মামলা রুজু হয়েছে। দিল্লির অপরাধ জগতের অন্য একটি অন্ধকার দিক হলো কিশোর অপরাধের বাড়বাড়ন্ত। মোট ২,৩০৬টি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোরদের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে, যার মধ্যে খুন, ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের মতো মারাত্মক অভিযোগও রয়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনঘনত্ব, ভাসমান জনসংখ্যা এবং দ্রুত নগরায়নের ফলে সামাজিক অস্থিরতা দিল্লিতে অপরাধের হারকে প্রভাবিত করছে। যদিও পুলিশি সক্রিয়তায় মোট মামলার সংখ্যা কমেছে, কিন্তু নারী ও শিশুদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন শহরের সামাজিক কাঠামো এবং জননিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পকসো ও ধর্ষণের ক্রমবর্ধমান হার নাগরিক মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে, যা রাজধানীর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও কালিমালিপ্ত করার আশঙ্কা রাখে।