আপ্ত সহায়ক খুনেও পাথরের মতো শান্ত শুভেন্দু, কর্মীদের দিলেন চরম সংযমের বার্তা

শনিবার ব্রিগেডের মহামঞ্চে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। তার ঠিক প্রাক্কালে বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে নৃশংসভাবে খুন হন শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের অতি বিশ্বস্ত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। নিজের ছায়াসঙ্গীকে হারিয়েও শোকাতুর শুভেন্দু অধিকারী যে রাজনৈতিক পরিপক্কতা দেখালেন, তা বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দলীয় কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কোনোভাবেই যেন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া না হয়।

প্রতিবাদ হোক গণতান্ত্রিক পথে

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনার খবর আসছিল। এর মধ্যে চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শুভেন্দু অধিকারী কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “তৃণমূলের প্রতি আপনাদের ক্ষোভ থাকতেই পারে। প্রয়োজনে এলাকা তৃণমূলের পতাকা মুক্ত করুন, ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলুন। কিন্তু ভুলেও কারও বাড়িতে ঢুকবেন না।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা বা মহিলারা থাকেন এবং গুন্ডামি বা হিংসা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর এই কৌশলী বার্তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

তদন্তে বিশেষ দল ও বর্তমান পরিস্থিতি

বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ যখন গাড়ি নিয়ে ফিরছিলেন, তখন পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে আততায়ীরা। পুলিশ ইতিমধ্যেই খুনে ব্যবহৃত ভুয়ো নম্বর প্লেটের গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি ও বারাসত পুলিশ জেলার সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তদন্ত প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। সিআইডি ও রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ‘সিট’ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। তবে ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পরও কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় জনমানসে এবং রাজনৈতিক মহলে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সরকার গঠনের ঠিক আগে এই হত্যাকাণ্ড প্রশাসনের কাছে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *