পরিচালকের বিতর্কিত মন্তব্যে ক্ষুব্ধ নীনা গুপ্তা এবং নব্বই দশকের শুটিং সেটের তিক্ত অভিজ্ঞতা
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা সম্প্রতি তাঁর ক্যারিয়ারের একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন, যা নিয়ে বিনোদন জগতে চর্চা শুরু হয়েছে। ১৯৯৩ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘খলনায়ক’-এর জনপ্রিয় গান ‘চোলি কে পিছে’-র শুটিং চলাকালীন পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের একটি বিশেষ পরামর্শে তিনি রীতিমতো ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করেছিলেন। পর্দার উপস্থিতিকে আরও আকর্ষণীয় করার নামে পরিচালকের এমন মন্তব্য সে সময় অভিনেত্রীকে গভীর সংকটে ফেলেছিল।
কস্টিউম ও শারীরিক গঠন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য
নীনা গুপ্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গানটির শুটিং শুরুর আগে সুভাষ ঘাই কস্টিউম টিমকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে অভিনেত্রীকে বিশেষ ধরনের প্যাডেড অন্তর্বাস পরানো হয়। পরিচালকের যুক্তি ছিল, এতে পর্দায় নীনাকে আরও ‘যৌবনসম্পন্না’ ও ‘পরিপূর্ণ’ দেখাবে। একজন পেশাদার শিল্পীর কাছে তাঁর শারীরিক গঠন নিয়ে এমন প্রকাশ্য মন্তব্য ছিল অত্যন্ত বিব্রতকর। নীনা জানান, সুভাষ ঘাইয়ের সেই কথা শুনে তিনি শুধু ক্ষুব্ধই হননি, বরং ভীষণভাবে অপমানিত বোধ করেছিলেন।
নব্বই দশকের কাজের পরিবেশ ও প্রভাব
এই ঘটনাটি নব্বই দশকের বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পরিবেশ এবং নারী অভিনেত্রীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নীনা গুপ্তার এই সাহসী স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, একজন দক্ষ অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে শরীরী সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে বিচার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমানে যখন চলচ্চিত্র জগতে নারী সুরক্ষা ও সম্মান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, তখন নীনার এই স্মৃতিচারণ কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সংবেদনশীলতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এল। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।