আইপ্যাক ও প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের কৌশল নিয়ে বড় মন্তব্য
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা টানাপোড়েন এবার এক নতুন মাত্রা পেল। দলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সরাসরি নির্বাচন কৌশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC) এবং প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন। তাঁর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেছেন যে, আইপ্যাকের হস্তক্ষেপই দলের সংগঠনের সবথেকে বেশি ক্ষতি করেছে। তাঁর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আইপ্যাক ও প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তিনি এই বিষয়ে সরব ছিলেন বলে জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, আইপ্যাকের কর্মপদ্ধতি দলের জন্য আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপ হয়েই বেশি দেখা দিয়েছে। প্রশান্ত কিশোরকে ‘সুযোগ সন্ধানী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “উনি থাকলে দলটাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।” প্রবীণ এই নেতার আক্ষেপ, ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করার পরেও এখন অল্পবয়সী আইপ্যাক কর্মীদের থেকে তাঁকে রাজনীতির পাঠ নিতে হচ্ছে, যা দলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার অন্যতম বড় কারণ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও পরিবর্তনের ডাক
দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে কল্যাণ জানান যে, অভিষেকের যথেষ্ট বুদ্ধি রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তন আনা একান্ত জরুরি। অভিষেকের হাত ধরে দলে যে পেশাদারিত্বের ছোঁয়া এসেছিল, তার মূল কারিগর ছিল আইপ্যাক। আর সেই সংস্থার বিরুদ্ধেই কল্যাণের এই প্রকাশ্য জেহাদ আদতে দলের পুরনো ও নতুন প্রজন্মের সংঘাতকেই সামনে নিয়ে এল। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বা পরে যখনই হোক, দলের নীতি নির্ধারণে বহিরাগত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে যে অস্বস্তি ছিল, কল্যাণের এই বিস্ফোরক মন্তব্য তারই বহিঃপ্রকাশ। এখন দেখার, কল্যাণের এই আক্রমণের প্রেক্ষিতে তৃণমূল নেতৃত্ব বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো কড়া পদক্ষেপ নেন কি না।