গেরুয়া হাওয়ায় কুমোরটুলিতে রাম-সীতা ও হনুমান মূর্তির আকাশছোঁয়া চাহিদা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল কলকাতার কুমোরটুলিতে। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পটুয়াপাড়ায় রাম-সীতা, হনুমান এবং রাধা-কৃষ্ণের মূর্তির চাহিদা এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকে গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা মূর্তির বরাত দিতে ভিড় জমাচ্ছেন শিল্পীদের স্টুডিওতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কারিগররা।
ফাইবার মূর্তিতে জোর ও শিল্পীদের ব্যস্ততা
কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা জানাচ্ছেন, প্রথাগত মাটির মূর্তির চেয়ে এখন ফাইবারের বড় রাম-সীতা ও হনুমান মূর্তির চাহিদা সবথেকে বেশি। টেকসই এবং সহজে বহনযোগ্য হওয়ার কারণেই ফাইবার মূর্তির ফরমাশ বেশি আসছে। অনেক শিল্পী ইতিমধ্যেই দিনরাত এক করে এই ধরণের মূর্তির কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত দুর্গাপ্রতিমা বা কালীপ্রতিমার কাজের পাশাপাশি এই নতুন ধরণের মূর্তির আগাম বরাত শিল্পীদের বাড়তি রোজগারের সুযোগ করে দিলেও, সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গেরুয়া ঝড় ও কারিগর সংকট
পটুয়াপাড়ার শিল্পীদের মতে, রাজ্যে ‘গেরুয়া ঝড়’ শুরু হওয়ার পর থেকেই ধর্মীয় ও পৌরাণিক মূর্তির এমন চাহিদা আগে কখনও দেখা যায়নি। জয়ী প্রার্থীরা যেমন নিজেদের এলাকায় রাম-সীতার মন্দির বা মূর্তি স্থাপনে আগ্রহী, তেমনই সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও এই উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। তবে হঠাৎ করে এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে কুমোরটুলিতে দক্ষ কারিগরের অভাব দেখা দিয়েছে। দ্রুত ফরমাশ পূরণ করার জন্য শিল্পীদের ওপর যেমন চাপ বাড়ছে, তেমনই সরগরম হয়ে উঠেছে তিলোত্তমার এই প্রাচীন শিল্পকেন্দ্র। রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই ঢেউ কুমোরটুলির অর্থনৈতিক সমীকরণকেও বদলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।